সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার খোলেশখালী গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী মোড়ল (৮৬), পিতা মরহুম মোঃ কাদের বাক্স মোড়ল, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ এপ্রিল। তিনি তার স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরার চিকিৎসক ডা. গোলাম কিবরিয়ার কাছে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দেন। পথিমধ্যে পাটকেলঘাটা এলাকার সাগদা ব্রিজে পৌঁছালে পিছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি ইজিবাইক তাদের বহনকারী ইজিবাইককে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি উল্টে যায়।
আজ ২৬ শে এপ্রিল রবিবার ঘটনাটি জানা যায়। গাড়িতে চালকসহ মোট ছয়জন যাত্রী ছিলেন। অন্যান্য যাত্রীরা অক্ষত থাকলেও ইউসুফ আলী মোড়ল মারাত্মকভাবে আহত হন। দুর্ঘটনায় তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।
দুর্ঘটনার পর তার বড় ছেলে মোঃ আব্দুল মুকিত ইকবাল (৫১) ও পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে সাতক্ষীরার স্বপ্না ক্লিনিকে ডা. হুমায়ুন কবিরের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অর্থসংক্রান্ত বিষয় ও চিকিৎসা নিয়ে অসন্তোষের জেরে তারা ক্লিনিক ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, সেখানেও তারা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দুই দিন পার হলেও কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক রোগীকে পর্যাপ্তভাবে দেখেননি। নার্সরা শুধুমাত্র কিছু ট্যাবলেট দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তেমন কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এছাড়া হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, বাথরুমসহ সামগ্রিক পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক, যা রোগীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে ইউসুফ আলী মোড়লের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। আর্থিক সংকটের মধ্যেও তারা তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এ ঘটনায় পরিবারটি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে, ইউসুফ আলী মোড়ল দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।