1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

‘জাতিসংঘের সমুদ্র আইন মানতে বাধ্য নয় ইরান’

Desk report
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ইরান জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বা ‘আনক্লজ’ মেনে চলতে আইনিভাবে বাধ্য নয় বলে জানিয়েছেন, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দেওয়া এই বিবৃতিতে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক কঠোর নৌ-পদক্ষেপগুলোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।

ইরাভানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ নৌ-চলাচলের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতেই তেহরান এই বিশেষ ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করেছে। মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে ইরানের এই অনড় অবস্থানকে বর্তমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানি প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কিছু প্রভাবশালী সদস্যের বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’ অবলম্বনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইরাভানি অভিযোগ তোলেন যে, ওই দেশগুলো ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ নৌ-অবরোধের বিষয়ে নীরব থেকে কেবল ইরানের গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

তার মতে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর এই উদ্বেগ কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয় এবং তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই উদ্বেগের কোনো সামঞ্জস্য নেই। তিনি মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই মূলত আন্তর্জাতিক আইন বেশি লঙ্ঘিত হচ্ছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয় এবং এই পথে ইরানের কড়াকড়ির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরাভানি তার বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানকে তাদের সমুদ্রসীমানায় হুমকির মুখে রাখা হবে, ততক্ষণ তারা নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবে না।

তেহরান মনে করে, আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দিয়ে তাদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেল।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন নিয়ে ইরানের এই প্রকাশ্য বিরোধিতা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। যেহেতু ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির সব ধারায় স্বাক্ষর করেনি বা তা অনুমোদন করেনি, তাই তারা নিজেদের জলসীমায় নিজস্ব নিয়ম কার্যকর করতে চায়।

এই কূটনৈতিক লড়াই এখন কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পর হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েন থাকা পশ্চিমা সামরিক জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক বিশ্বের।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com