1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কানাডার দাবানল নিয়ে ক্ষুব্ধ, নতুনভাবে শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের রাজশাহী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও এলামনাই এ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ের উদ্বোধন নওগাঁর আত্রাইয়ে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ বন্ধ: কনের বাবার জরিমানা ও মুচলেকা কপোতাক্ষের তীরে মৃত্যুর ফাঁদ: কয়রায় ছাদ ধসে পড়ল কলেজের ভবনের, অলৌকিকভাবে রক্ষা ২৫০ শিক্ষার্থীর ঝালকাঠির রাজাপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি চিরিরবন্দরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুর মৃত্যু জনবান্ধব প্রশাসন, অপরাধ দমন, দ্রুত জনসেবা ও উন্নয়নে গৌরনদীবাসীর আস্থার নাম ইউএনও মো. ইব্রাহীম রাজশাহীতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও আমাদের দায়িত্ব” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কৃষি কর্মকর্তা নিহত রাজশাহীর বাগমারা থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদানের পর টানা ১০০ দিনে

কপোতাক্ষের তীরে মৃত্যুর ফাঁদ: কয়রায় ছাদ ধসে পড়ল কলেজের ভবনের, অলৌকিকভাবে রক্ষা ২৫০ শিক্ষার্থীর

এস এম এ রউফ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

উপকূলীয় উপজেলা কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নে কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী অবস্থিত গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে। গতকাল ১৭ জুলাই (শুক্রবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ এই ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছিল নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণির পাঠদান। ছাদ ধসে পড়ার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল দোতলা ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত কঙ্কালসার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের অধীনে ১৯৯৫ সালে প্রথম তলা এবং ২০০১ সালে দ্বিতীয় তলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু আইলা, ইয়াস ও রিমালের মতো একের পর এক প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধ ভেঙে বারবার নোনা পানিতে দীর্ঘ সময় ডুবে থাকার কারণে ভবনটি দ্রুত কার্যক্ষমতা হারায়। বর্তমানে ভবনটির দরজা, জানালা ও দেয়ালের অস্তিত্ব বলতে প্রায় কিছুই নেই। চারদিকের পিলার ও ছাদ ফেটে রড বেরিয়ে এসেছে। এর আগেও ছাদের পলেস্তারা ও চাঙড় খসে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় একটি ছোট টিনশেড ঘরে গাদাগাদি করে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে আমাদের বা শিক্ষার্থীদের কারোরই পাঠদানে মন বসে না। টিনশেডের অল্প জায়গায় এত শিক্ষার্থী নিয়ে আমরা ক্লাস করাতে চরম হিমশিম খাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ্ব দ্বীন মোহাম্মদ জানান, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান একসময় অত্যন্ত ভালো ছিল। কিন্তু ভবনের এই বেহাল দশার কারণে অভিভাবকরা আতঙ্কে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বিদ্যালয়টি এখন ছাত্রশূন্য হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ঝুঁকি এড়াতে ও নতুন ভবনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে জানান শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষার উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই ভবন দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি। আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত জানানো হলেও এখনো কোনো সুফল মেলেনি।”
কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, “এখানে নতুন ভবন আশু প্রয়োজন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নতুন একটি ভবন বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এ বিষয়ে আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, “গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা আমাদের অগ্রাধিকার। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই এখানে নতুন স্কুল ভবন ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আর কোনো আশ্বাস বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নয়; অনতিবিলম্বে ২৫০ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার ও জীবন সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে এখানে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হোক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com