1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
  2. bot@local.invalid : Service Bot :
  3. infoobayed@gmail.com : infoobayed :
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন

সিলেটে ৩খুন: নেপথ্যে কী কাজের মেয়ের প্রেম না অন্যকিছু?

Desk report
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

সিলেটে সকাল সাড়ে নয়টায় এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীসহ চাঞ্চল্যকর ৩খুনের জট খুলছে না এখনো।

বুধবার (১২ আগস্ট) নগরীর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিকুঞ্জ ভিলা-১১১নং বাসার দোতলায় এক কক্ষে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও গৃহকর্মীর লাশ,অপর কক্ষে ব্যবসায়ীর লাশ নিয়ে সকাল ও
সন্ধ্যায় মিডিয়ায় ব্রিফিং করেছে পুলিশ।

সকালে ব্রিফিংয়ে এসএমপি’র কমিশনা সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, ৩খুনের কারণ হিসাবে আপাত দৃষ্টিতে ধারণা করা হচ্ছে জায়গা জমির দলিল,
পারিবারিক বা ডাকাতির সম্ভাবনা থাকতে পারে।অন্য কিছু ও থাকতে পারে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ক্লু লেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে এসএমপি’র কমিশনার এর তত্ত্বাবধানে একটি চৌকস টিম গঠন করা হয়।
কয়েক সেকেন্ডের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখেই বাবুলকে শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর তার বাসার চারপাশে সাদা পোশাকে অবস্থান নিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
ঘটনার ৪ঘন্টার মধ্যেই সাফল্য পায় পুলিশ।

গ্রেফতারের পর
সন্ধ্যায় ফের ব্রিফিং দেন পুলিশ কমিশনার।তিনি জানান,গৃহকর্মীর সাথে কিলার বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক এবং এই সুবাদে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় প্রথমে প্রেমিকা গৃহকর্মী তাহমিনার সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে কিলার বাবুল এবং তাকে রক্তাক্ত করে।তার চিৎকারে গৃহ কর্তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও রক্তাক্ত করে।পরে গৃহ কর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তিনি ভিকটিমের সূত্র ধরে জানান,গৃহকর্মীর সাথে কিলার বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক ১৫-২০ দিন হয়েছে।

বাবুলকে গ্রেফতারের পর
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারের জন্য তাকে নিয়ে পাশের প্লটে আসেন পুলিশ কমিশনার।এসময় বাবুল জানায়,হত্যার পর শপিং ব্যাগে করে ছুরিটি পাশের প্লটে ফেলে দেয়।
তারপর পুলিশ সদস্যরা সেই প্লটে হন্যে হয়ে খুঁজাখুঁজি করেন।
একপর্যায়ে পরিষ্কার করে ফেলেন প্লটের ঘাস-বৃক্ষ কিন্তু কোথাও কোন ছুরি মেলেনি।এই মিস গাইড করেন কিলার বাবুল।

তাছাড়া,আটককৃত ঘাতক বাবুলের বাম হাতে বি+এন লাভ চিহ্ন থাকায় বিষয়টি নেটিজনদের চোখে আরও বিতর্ক সৃষ্টি করে।
এমনকি সিসি ফুটেজে দেখা যায় ঐ গৃহকর্মী কিচেনে কাজ করছেন।এমন সময় কোন একটি বিষয় তাৎক্ষণিক ধ্যান করে শুনে পাশের রুমে চলে যান।সেখানে গিয়ে চিৎকার করেন।

ঘটনার রহস্য গৃহকর্মীর প্রেমকে কেন্দ্র করে ঘটেছে,এমন বক্তব্য প্রচারের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সোস্যাল মিডিয়ায়।সাংবাদিক,
রাজনীতিবিদ,
সিলেটের সচেতন নাগরিক সবাই সমালোচনা করে প্রশ্ন রাখছেন,১৫-২০দিনের প্রেমে কী ঠান্ডা মাথায় তিন ৩টি হত্যা কাণ্ড সম্ভব?

প্রেমিকার সাথে অনৈতিক কাজ করতে আসলে কেন ছুরি সাথে নিয়ে আসবে?

অনৈতিক কাজ করতে চাইলে দিনের বেলা কী উপযুক্ত সময়?

এরকম নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সিলেটের জনগণের মাঝে।
ঘটনার পরপরই
নিহত আব্দুস সাত্তারের সহকর্মী তৌহিদুল ইসলাম জানান,জায়গা সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুস সাত্তারের মামলা মোকদ্দমা চলে আছে।সিলেট নগরীর রিকাবী বাজারস্হ “ইম্পালস টাওয়ার” এর ভূমি নিয়ে একটি পক্ষের সাথে ২০২৩সাল থেকে মামলা চলে আসছে।সিলেট জজ কোর্টে এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তাকে কিছুদিন পূর্বে হত্যার হুমকি দেন।এনিয়ে তারা আতঙ্কে ছিলেন।তবে এ লক্ষ্যে এঘটনা কিনা তা বোধগম্য নয়।একসময় আব্দুস সাত্তারের মেয়ে অনেক আগে একটি জিডি ও করেছিলেন।
এইসব ঘটনা প্রকাশের পর ঘটনার আসল রহস্য নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসনের আপডেট জানতে বার্তা বাজার কথা বলেছে,এসএমপি’র মিডিয়া অফিসার (এডিসি) মঞ্জুরুল আলমের সাথে,তিনি জানান,তার কাছে আর কোন আপডেট নতুন তথ্য নেই।ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিক ও পাবলিকের কাছে যতটুকু ততটুকুই তাদের কাছেও রয়েছে।

মামলা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান,এখন পর্যন্ত কোন লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়নি।তার পরিবারের কেউ বাদী হয়ে মামলা করবে এমনটি বলেছেন তিনি।

এবিষয়ে তদন্তে নামে বার্তা বাজার,নানা কৌশল অবলম্বন করে পাশের বাসার একজন মেয়ের সাথে কথা হয়।ঐ মেয়ে তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। তিনি জানান,এই বিষয়ে তিনি জানেন,মেয়েটির সাথে প্রেম ছিলো এবং কয়েকদিন পূর্ব থেকে বাড়ীর মালিক বকাঝকা করেন বাবুলকে।
এই জেদ মেটাতে এমনটি ঘটতে পারে। নিহত তাহমিনার মামা জানান,তাহমিনার পূর্বে একটি বিয়ে হয়েছিল এবং সেই স্বামীর সাথে তাহমিনার ডিভোর্স হয়।এরপর তিনি পরিবারের কাছে ফিরে আসেন এবং বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন।নিহত আব্দুস সাত্তারের বাসায় গত ঈদের পর এসে জয়েন করেন তাহমিনা।

স্হানীয় আরেকটি সূত্র জানায়, মিতালীর অনেকেই বাবুলকে রং মিস্ত্রি হিসাবে চিনে।অনেকের পরিচিত ও সে।
এলাকায় ঘুরাফেরা করেন প্রায়ই।তবে বখাটের মতন তার স্বভাব ছিলো।ঠান্ডা মাথায় খুন করে পালিয়ে যায় সে।
প্রেম হোক বা অন্য কিছু হোক হত্যা বাবুলই করেছে। তার সাথে অন্য কেউও জড়িত থাকতে পারে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com