গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাহাবাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা আক্তার মিলির বিরুদ্ধে আবারও বিতর্কিত আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এবার অভিযোগ, এক সহকারী শিক্ষককে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেছেন। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে টাকা দাবির প্রতিবাদ করায় সহকারী শিক্ষক মঈনুল ইসলামের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকির অভিযোগ তুলেছেন বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী। তারা ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মঈনুল ইসলাম জানান, পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় প্রধান শিক্ষিকা দুই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রধান শিক্ষিকা উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং জুতা দিয়ে মারধরের হুমকি দেন। তিনি আরও জানান, এর আগেও বিদ্যালয়ের পিয়ন আব্দুর রাজ্জাক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন প্রধান শিক্ষিকার হাতে।
এ বিষয়ে ইউএনও রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, অভিযোগ হাতে পেয়েছি। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে। প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগের দেওয়া অঙ্গীকারনামা ভঙ্গের বিষয়টিও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর আগে গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রধান শিক্ষিকার অশোভন আচরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সেদিন এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং হুমকির ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তখন ইউএনও বরাবর দায় স্বীকার করে অঙ্গীকারনামা দিয়েছিলেন ফাতেমা আক্তার মিলা যে, ভবিষ্যতে তিনি এমন আচরণ পুনরাবৃত্তি করবেন না।
একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী অভিযোগ করেছেন, ফাতেমা আক্তার মিলি প্রয়াত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের আত্মীয় এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতির ছোট বোন। রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবেই তিনি ২০১৫ সালে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সহকারী শিক্ষক থেকে সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। এরপর থেকেই বিদ্যালয়ে তিনি কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব দেখিয়ে একাধিকবার সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ হাতে পেলেই তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন জমা দেবেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।