ভারত সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা-কে ঘিরে ভারত যে বক্তব্য দিয়েছে, তা সরাসরি সমর্থন বা বিরোধিতা নয়-বরং একটি সতর্ক, ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান। গত শুক্রবার ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি’ এবং ‘সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’-এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যেই ভারতের কৌশল স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এখানে স্পষ্ট করে কোনো পক্ষ নেয়নি। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একে স্টাটেজিক এম্বিগিটি বলা হয়। এর মাধ্যমে ভারত ভবিষ্যতের জন্য সব দরজা খোলা রাখছে-যে দিকেই পরিস্থিতি যাক না কেন।
বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য-সবকিছুতেই স্থিতিশীল বাংলাদেশ ভারতের স্বার্থে। তাই ভারত এমন কোনো বক্তব্য দিতে চায় না, যা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
জয়সওয়ালের বক্তব্যে ‘জুুিডশিয়াল প্রসেস’ বা আইনি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান না নিয়ে বিষয়টিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে-যা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি অবস্থান।
ভারত বারবার বলে থাকে যে, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করে না। এই বক্তব্য সেই নীতিরই পুনরাবৃত্তি, যাতে বাংলাদেশে কোনো পক্ষ ভারতের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলতে না পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক বলেন, ভারত একদিকে শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথাও মাথায় রাখছে। তাই তারা এমন অবস্থান নিচ্ছে, যাতে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় থাকে। সব মিলিয়ে রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্যকে সরলভাবে দেখলে এটি ‘নিরপেক্ষ’মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।
এ দিকে, চলতি মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতে গিয়ে সার্ক নিয়ে কোন কথা বলেন না। কারণ পাকিস্তানের সাথে ভারতের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। বর্তমান সরকার শুরু থেকে সার্কের উপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। প্রশ্ন হলো-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেন সার্ককে এড়িয়ে গেলেন? তবে কী তিনি জাতিসংঘে ভারতের সমর্থন পাওয়ার আশায় বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন?






