ঈশ্বরদীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেছেন, “কুড়াল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে যারা সেদিন ধানের শীষের বিরোধিতা করেছিল, আমি তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিহিংসা পোষণ করি না। আমি চাই, তাদের ঈমানী শক্তি ফিরে আসুক।”
সোমবার দুপুরে ঈশ্বরদীর পাকশী পাঁচ শহীদের মোড়ে বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, “আমি মনোনয়ন চাইনি। তবুও বেগম খালেদা জিয়া আমাকে মনোনয়ন দিয়ে এমপি বানিয়েছেন। তাঁর সংস্পর্শে রেখে তিনি আমাকে পরিপূর্ণভাবে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন।”
তিনি বলেন, “সেদিন আমাকে ধানের শীষে পরাজিত করে আমার ক্ষতি করা হয়নি, বরং আপনারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যারা কুড়াল প্রতীক নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, আমি তাদের বিরোধিতা করবো না।”
পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবীর আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন রেলশ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি আহসান হাবিব, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, জাকিউল ইসলাম তপন, বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুস সোবহান, আক্তার মল্লিক, রুহুল আমিন বাবলু, ফজলুর রহমান মাস্টার, হিরোক সরদার, শ্রমিকদল নেতা সোহেল রানা, মহিলা দলের সভাপতি সেলিনা ইসলাম, ইউপি সদস্য ফাতেমা আক্তার পলি, যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন সিরাজুল ইসলাম সরদার। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কুড়াল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন বর্তমান পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। ফলে ধানের শীষ প্রার্থী পরাজিত হন এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হন।
আসন্ন নির্বাচনে সেই হাবিবুর রহমান হাবিবই ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে সিরাজুল ইসলাম সরদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।