পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বক্তব্য এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর রাজনৈতিক ভাষা দলীয় শিষ্টাচার ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার নামে বাউফলের মূল ধারার নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় বাউফল উপজেলা বিএনপির প্রধান দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মীসভায় এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে তোলা হয়।
কর্মীসভায় সভাপতিত্ব করেন বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মু. মুনির হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মু. মুনির হোসেন বলেন, “ধানের শীষের পক্ষে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে।”
সভায় বক্তব্য রাখেন বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মাসুম বিল্লাহ পলাশ। তিনি বলেন, “২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শহিদুল আলম তালুকদার ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম ফারুক আহমেদ তালুকদার বিপক্ষে গিয়ে জাপান ফিরুজ এর আনারস প্রতীক প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে সহায়তা করেছিলেন—সে কথা আমরা ভুলে যেতে চাই। তবে এটাও মনে করিয়ে দিতে চাই, আপনার বাড়ি এমন কোনো স্থানে নয় যে বাউফল উপজেলার বিএনপির সবাইকে সেখানে দিয়ে যাতায়াত করতে হবে। কাজেই ‘বিএনপি করতে হলে আমার এখানেই আসতে হবে’—এই বক্তব্য সঠিক নয়।”
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল জব্বার মৃধা বলেন, বাউফল উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে রাজনীতি করে আসছেন। কিন্তু বর্তমান মনোনীত প্রার্থীর বক্তব্য কোনোভাবেই দলীয় বা সাংগঠনিক ভাষা হতে পারে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর বাউফল পাবলিক মাঠে আয়োজিত জনসভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, “আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে তারেক রহমান, তুই মানিস না—নামার কে?”—যে ভাষা দলীয় শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, গত ২৯ ডিসেম্বর জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে নিজ বাসভবনে দেওয়া শহিদুল আলম তালুকদারের বক্তব্য—“বাউফলে বিএনপি করতে হলে আমার হাত ধরেই করতে হবে”—নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
কর্মীসভায় আরও অভিযোগ করা হয়, বাউফলের বিভিন্ন ইউনিয়নে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি অনুমোদিত মূল কমিটির নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরিকল্পিতভাবে মূল ধারার নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
নেতাকর্মীরা বলেন, দলীয় নেতৃত্বকে অবমূল্যায়ন করা হলে নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। সিনিয়র নেতাদের অসম্মান ও একতরফা সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
শেষে দলীয় ঐক্য অটুট রেখে সকলকে সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।