দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগুরুত্বপূর্ণ যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক এখন যেন এক জীবন্ত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সড়কে লাশের মিছিল দীর্ঘতর হলেও প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন আর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার চরম অব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন ঝরছে তাজা প্রাণ, পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অগণিত মানুষ।
এই অব্যবস্থাপনার সবশেষ শিকার হয়েছেন কলারোয়া উপজেলার একই পরিবারের তিনজন। গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর আনুমানিক ২টা ৪ মিনিটে কলারোয়া থানাধীন কাজীরহাট বাজার সংলগ্ন এসটি সুপার মার্কেটের সামনে ঘটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। উত্তর দিগং গ্রামের বাসিন্দা মোঃ কবীর উদ্দীন বিশ্বাস (৪৫) তার স্ত্রী মোছাঃ পারুল পারভীন (৪০) এবং মাত্র তিন বছর বয়সী শিশু পুত্র বিএম তাওফিক কবীরকে নিয়ে মোটরসাইকেলে কলারোয়া থেকে কাজীরহাট যাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, পেছন থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির অজ্ঞাত মিনি পিকআপ কোনো কারণ ছাড়াই মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। প্রচণ্ড আঘাতে সড়ক ছিটকে পড়েন বাবা-মা ও কোলের শিশুটি। পৈশাচিকতা এখানেই শেষ নয়; দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে না এসে ঘাতক চালক দ্রুত গতিতে যশোরের দিকে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে যশোর কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুর্ঘটনায় কবীর উদ্দীনের বাম পায়ের হাড় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। এছাড়া দুই হাতের আঙুল ও কবজিতে মারাত্মক জখম নিয়ে তিনি বর্তমানে শয্যাশায়ী। স্ত্রী ও শিশু পুত্র প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এই অবস্থায় পরিবারটি এখন দিশেহারা। কবীর উদ্দীন জানান, চিকিৎসার পেছনে ইতিমধ্যে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে, যা জোগাড় করতে পরিবারটি এখন গভীর আর্থিক সংকটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এই মহাসড়কে বাস, ট্রাক ও ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর চেকপোস্ট বা ট্রাফিক নজরদারি নেই। কয়েকদিন আগেই এই উপজেলায় এক কলেজ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হলেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। স্থানীয়দের অভিযোগ, “প্রশাসন কি কেবল লাশ গুনতেই ব্যস্ত? আর কত প্রাণ গেলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে?”
এ বিষয়ে আহত কবীর উদ্দীন বিশ্বাস কলারোয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অবিলম্বে ঘাতক পিকআপ চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের এখন একটাই দাবি—যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়ককে নিরাপদ করতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। অন্যথায় এই ‘মৃত্যুমিছিল’ থামানো সম্ভব হবে না।