সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ৯ নং হেলাতলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের চেরাঘাট এলাকার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কারে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার উন্নয়নকাজে মাটির ব্যবহার এবং কাজ শেষ না করেই মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি এখন আকাশচুম্বী।
জনভোগান্তির চিত্র:
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চেরাঘাট এলাকার এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ এবং যানবাহন চলাচল করে। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ শুরু করা হলেও বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শুধু মাটি দিয়ে রাস্তাটি ভরাট করা কাজ করতে গিয়ে মাঝপথে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদার। বর্তমানে রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। অসুস্থ রোগী, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহনে এলাকাবাসীকে চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।
দুর্নীতির অভিযোগ:
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার না করে দায়সারাভাবে কাজ শুরু করা হয়েছিল। এই রাস্তা মাটি দিয়ে উচু করে ইট সলিং করে দেবে বলে এখন রাস্তার টেকসই উন্নয়নের পরিবর্তে কেবল মাটি সামান্য কিছু ফেলে দায় সারার চেষ্টা করা হয়। এর কিছুদিন পরেই কোনো এক অদৃশ্য কারণে কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট পক্ষ। এলাকাবাসীর দাবি, এটি স্পষ্টতই দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ। সরকারি অর্থের অপচয় করে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ:
চেরাঘাট এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি উন্নয়নের নামে রাস্তার পাশে থাকা সমস্ত ফলের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এখন রাস্তাটি কাজ শেষ না করে মাঝপথে ফেলে রেখে দেওয়া হয়েছে। মাটি ফেলার কারণে এখন আর হাঁটাও যাচ্ছে না। কাজ শেষ না করে ঠিকাদার লাপাত্তা, আমরা এখন কার কাছে বিচার চাইব?”
কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা:
অসম্পূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ এই রাস্তার কাজ নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অতি দ্রুত এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং রাস্তাটি পুনরায় মানসম্মতভাবে সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।