কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নে তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করার ঘটনা এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।ঘটনার পর থেকে নিহত নারীর স্বামীর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় হত্যাকাণ্ডটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১১ জানুয়ারি রোববার গভীর রাতে ভিতরবন্দ ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে বাড়ির ভেতরে ওই নারীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
প্রতিবেশী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত নারী ও তার স্বামীর মধ্যে প্রকাশ্যে কোনো ধরনের পারিবারিক কলহ ছিল না। তারা দুজনেই মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক ও সচ্ছল ছিল বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
এদিকে, ঘটনার পেছনে তৃতীয় কোনো পক্ষ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকার অনেক মানুষ। তাদের মতে, শুধুমাত্র স্বামীকে দায়ী করার মতো নিশ্চিত কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ঘটনার সময় নিহত নারীর স্বামীকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে অথবা তার সঙ্গেও কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব বিষয় এখনও অনুমান পর্যায়েই রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহত নারীর স্বামীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
এ নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।