শরীয়তপুরের জাজিরার ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত বিলাসপুরে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে “ডগ স্কোয়াড” এর সাহায্যে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, ককটেল বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১২-জানুয়ারি) ভোর চারটা থেকে জাজিরার বিলাসপুর ও পার্শ্ববর্তী নড়িয়ার রাজনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে মুলাই বেপারী কান্দির চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর বাড়ির আশেপাশে এবং চেরাগ আলী বেপারি কান্দির সেলিম মোল্লা ও মোন্তা বেপারির বাড়ি ও তার আশেপাশে অভিযান চালিয়ে ৪৫ টি ককটেল উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী।
অভিযান চলাকালীন সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মুলাই বেপারি কান্দির বাবুল বেপরীর বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে মজিদ বেপারির বাড়ির বাঁশঝারে ১২ টি, নুরুজ্জামান বেপারীর বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে বসতঘরের বাহিরের কানায় ১২টি, শামচুল বেপারীর বাড়ির পার্শ্বে বাঁশঝার থেকে ১২টি ও চেরাগ আলী বেপারি কান্দির শাজাহান ছৈয়ালের বাড়ির পার্শ্বে ৯টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। যেগুলো পরবর্তী সংঘর্ষের প্রস্তুতি হিসেবে প্লাস্টিকের বালতিতে করে রেখে দেয়া ছিলো। উক্ত অভিযানে প্রায় ৫০-৬০ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি প্রায় ১২০ জনেরও অধিক সেনা সদস্যরা অংশগ্রহণ করে।
এছাড়াও অভিযানে বিপুল পরিমাণ ককটেল বোমা তৈরির সরঞ্জাম, দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র এবং একটি খেলনা ড্রোন উদ্ধার করা করা হয়। উক্ত অভিযানে তিনজন মহিলা ও একজন পুরুষকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ককটেল বোমা ও ককটেল বোমা তৈরির সরঞ্জাম পরবর্তীতে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের মাধ্যমে ডিসপোজ করা হবে এবং দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সংরক্ষণ করে রাখার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অভিযান শেষে বিলাসপুর কুদ্দুস বেপারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ক্রাইম এন্ড অবস তানভীর হোসেন (পিপিএম সেবা) উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। উক্ত অভিযানে জাজিরা ক্যান্টনমেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা অফিসার ও শরীয়তপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(এএসপি) অর্থ ও প্রশাসন শরিফ উজ জামানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা বিলাসপুরের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানায়।
উল্লেখ্যঃ দীর্ঘ সময় বিরতির পরে সম্প্রতি আবারও বিলাসপুরে যুগ-যুগ ধরে চলে আসা ককটেল যুদ্ধ শুরু হলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটার দুইদিন পরেই কুদ্দুস বেপারীর সমর্থকরা ককটেল বোমা বাবাতে গিয়ে বিস্ফোরণে দুইজন ককটেল কর্মী নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়। সেই ঘটনার পরই প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে বিলাসপুরে। উক্ত ঘটনায় জাজিরা থানায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে বিবাদমান দু’টি গ্রুপেরই ৫৩ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত ১৪০-১৫০ জন আসামি দিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।