নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার গগনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৩/০১/২০২৬ ইং তারিখে তাদের বিভিন্ন দাবি, দাবিগুলো নিয়ে এক সমাবেশ করছেন, আন্দোলন করছেন এবং তাদের যে বিষয়টি দাবি হিসেবে আসছে তা হলো সাম্প্রতিক সময়ে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং বিদ্যালয়ে নতুন করে এই বছরের সেশন ফি যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে, এই সেশন ফি প্রত্যেকজন থেকে অতিরিক্ত পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে বিদ্যালয়ের যেসব উন্নয়ন খাতের নামে টাকাগুলো নেয়া হয়েছে এই উন্নয়ন খাতগুলো কিন্তু সম্পূর্ণভাবে বেহাত করে নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে এই টাকাগুলো তছনছ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং এই বিদ্যালয় যিনি প্রধান শিক্ষক তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি বিদ্যালয়ের এসব উন্নয়ন খাতের টাকা তোলার পর সেসব উন্নয়নের ব্যয় না করে ব্যক্তিগত উন্নয়নের কাজেই তিনি ব্যয় করেছেন। এরকম অভিযোগের সূত্র ধরে আজকে বিদ্যালয়ের প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ঐ সময় তারা এই বিদ্যালয়ের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন এবং প্রত্যেকের দিক থেকেই অভিযোগগুলোর যে বিষয়টি দার করানো হয়েছে যে,বিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার পরেও নতুন করে আবার সেই বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গিয়েই একেবারে অযৌক্তিক ভাবে টাকা নেয়ার একটা অভিযোগ তারা নিয়ে এসেছেন এবং মোট প্রায় দশটি অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরে এই মুহূর্তে তারা এই মানববন্ধনে যুক্ত হয়েছেন। বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের এই দাবিগুলো নিয়ে তাদের এই যৌক্তিক দাবি হিসেবেই তারা আন্দোলন করছেন এবং শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়, পাশাপাশি এখানে অভিভাবকও যুক্ত হয়েছেন। অভিভাবকদের দিক থেকেও একই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সরকারি বই যেখানে বিনামূল্যে দেওয়ার কথা ছিল সেই বই ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগ তোলে। প্রতিষ্ঠান প্রধান জোরপূর্বক স্বাক্ষর দিয়ে সেখানে আবার পরবর্তীতে অতিরিক্ত বিল ভাউচার তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। স্কুলের বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রয় করে সেটি ক্যাশ বইয়ে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে নিজের পকেটে রাখার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি বা বিদ্যালয়ের যারা দায়িত্বে রয়েছেন, প্রধান শিক্ষকসহ সবাইকে দায়ী করেন শিক্ষার্থীরা। এই অভিযোগগুলো তারা আসলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন এবং এটার একটা সুষ্ঠু দাবি এবং এখানে তারা হিসাব দাবি করছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই দাবিগুলো পূরণ না করার কারণে কিন্তু পরবর্তীতে এটি এক ধরনের আন্দোলনে রূপ নেয় এবং এই আন্দোলনেরই ধারাবাহিকতায় আজকে এই মুহূর্তে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী তারা এই প্রতিবাদ সমাবেশ করছেন। এ বছর তারা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার যেসব কারণ দেখিয়েছেন এ গুলো একেবারে অযৌক্তিক বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা। সে সময় দু’একজনের কাছে একটু জানতে চাই, তারা যে এই মুহূর্তে দাবিগুলো করছেন ও বিদ্যালয়ে যে অনিয়মের অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে, কতটুকু যুক্তিসম্মত। শিক্ষার্থীর আরেকটি দাবি করেন যে মিজানুর রহমান কে অবৈধভাবে অব্যাহতি দেয়া অব্যাহতি দেয়া হয়েছে গত ১৬/১১/২০২৬ ইং তারিখে শিক্ষকের ক্লাস না করার মিথ্যা অভিযোগ করে। অনেকগুলো দাবি শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে পাচ্ছিলাম এবং এই দাবিগুলোকেই তারা যে মূল বার্তাটি দিচ্ছেন যে, এখানে বিদ্যালয় কমিটি যে রয়েছে, কমিটির দিক থেকেই কিন্তু এই অস্বচ্ছ একটি হিসাব তোলা হয়েছে এবং চলতি বছরের উন্নয়ন ফান্ডের নামে যে খাতগুলি দেখিয়ে এই মুহূর্তে টাকাগুলো নেয়া হচ্ছে সেই খাতগুলো কিন্তু কোনভাবেই শিক্ষার্থীদের অনুকূলে না। শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কোন কাজে ব্যয় করা হয় না। শিক্ষার্থীরা এই অনৈতিক পন্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এক ধরনের ফুঁসে উঠেছেন এবং তাদের দিক থেকে মূল বার্তাটি যেটি বলা হচ্ছে সেটি তাদের যে, এই মুহূর্তে তাদের প্রিয় মিজানুর স্যারকে স্কুলে ফেরত আনা হোক আর আমাদের স্কুলে যে রাজনীতিমূলক কাজকর্ম চলছে ওগুলো বন্ধ হোক। আমরা চাই আমাদের স্কুলে আমরা সুষ্ঠুভাবে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতের জন্য আমরা ভালো কিছু করতে পারি। আমাদের স্কুলে বর্তমান শিক্ষার থেকে বেশি রাজনীতি চলছে, যেটা আমরা বন্ধ করতে চাই। আর এটা যদি বন্ধ না হয়, আমরা এই ভাবে ক্লাস না করে আন্দোলনে যুক্ত থাকব। শিক্ষার্থীর ম অনেকেই বেশি টাকা নেওয়ার কথা বলছে। সেশন ফি টাকা আমাদের অতিরিক্ত বেশি হচ্ছে । আরো বলেন একবার একটা খেলার ফ্রি নেওয়া হয়, আবার অন্যদিকে আরেক খেলার ফ্রি নেওয়া হয়। আমরা কি দুইটা খেলা ফ্রি দিব? আবার আমাদের স্কুলে স্কাউট করা হয় না মেয়েদেরকে। তাহলে মেয়েদের থেকে কিসের জন্য স্কাউটের ফি নিবে? বিদ্যুৎ বিল বাবদ ছয় মাসে দশ টাকা করে নেয়। তার থেকেও অধিকাংশ টাকা তাদের পকেটে ঢোকে। কিসের জন্য তাদের পকেটে ঢুকবে?শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাইলে বই দেওয়ার ক্ষেত্রে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ করা হচ্ছে, এটা কতখানি সত্য? এই যে বই, আপনাদের সরকারি বই যেটা পান, এই বইগুলো কি কালোবাজারে বিক্রি করা হয়? এটা সঠিক আমরা বলতে পারছি না। কারণ, আমাদের বই আমরা ঠিকমতো পেয়ে যাই। তো, এইজন্য আমরা বলতে পারছি না তারা কালোবাজারে বিক্রি করছে নাকি কি করছে আমরা বলতে পারছি না। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এসেছেন অনেকেই এই যে অভিযোগগুলো তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, এই বিদ্যালয়ে একটা সুষ্ঠু পরিবেশে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করুক। সেই সাথে যে অনৈতিক দাবিগুলো নিয়ে এই মুহূর্তে তারা রাস্তাঘাটে নেমেছেন, এটার একটা সুষ্ঠু সমাধান তারা দাবি করছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয় নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এই সার্বিক বিষয়গুলো নিয়েই কিন্তু ১৩/০১/২০২৬ তারিখে প্রায় সহস্রাধিক এই শিক্ষার্থী অভিভাবকের এই সমাবেশ নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার গগনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা করেছেন। এবং এই আন্দোলনের মধ্যে মূল বার্তাটি তারা যেটা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। চলতি বছরে এই এক ধরনের নতুন সেশনে যখনই শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর এই শিক্ষার্থীদের সেশন ফি নেয়া হচ্ছে সেটি গত বছরের চেয়ে অতিরিক্ত দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন বিদ্যালয় এক ধরনের বেশি নিচ্ছে এবং এই টাকাটি অনৈতিক দাবি করছেন। এবং এই অনৈতিক পন্থা থেকে শিক্ষার্থীদের যেন ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হয় সেই দাবিটি এখানকার এই আন্দোলনকারীদের, শিক্ষার্থী অভিভাবকদের দিক থেকে উঠে আসছে।
পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অফিসার ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রধান শিক্ষককে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয় মিজানুর স্যারকে বরখাস্ত করা হয়নি শোকজ করা হয়েছিল। এবং সেশন ফি ১৫০০ বা দুই হাজার টাকা অস্বীকার করে তিনি বলেন ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আরও বলেন আগামী সমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্ত করে বিষয়টি দেখবেন।