1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নেত্রকোনায় কারারক্ষীর বাড়িতে হামলা-লুটপাাটের অভিযোগ দায়ের দেখার কেউ নেই মাধবপুর কৃষি জমি, নদী, ছড়া, থেকে বালুমাটি লুট পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রংপুরে নবনির্বাচিত ৬ সংসদ সদস্যের সাথে জেলা প্রশাসনের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সোনালী ব্যাংকের ওয়াশরুম থেকে টাকা চুরির ঘটনায় ৩ জন গ্রেফতার মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে সংসদ সদস্য, সেবার মানোন্নয়নে কড়া নির্দেশনা পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ব্যারিস্টার নাজির আহমদ ফাউন্ডেশনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ পিরোজপুরে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির ‘মহোৎসব’, বিপন্ন ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা, জাতির মেরুদণ্ড কি আজ রুগ্ন? গাইবান্ধায় ২৫ শে মার্চ গণহত্যা ও ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রস্তুুতিমুলক সভা।। বার আউলিয়া ডিগ্রী কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে বোর্ডের ‘বিদ্যোৎসাহী সদস্য’ মনোনীত হলেন বিএনপি নেতা সালাহ্উদ্দিন সোহেল।

সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বানালো কে? অন্তর্বর্তী সরকারের ‘গৌরবগাঁথা’ ফাঁস করলেন রোবায়েত ফেরদৌস

এস চাঙমা সত্যজিৎ   
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩৩ বার পড়া হয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরের যা ‘কীর্তি’, তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। তিনি সাফ বলে দিলেন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা এই সরকারের আমলে ‘দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে’ পরিণত হয়েছেন। অর্থাৎ যারা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে রক্ত দিয়েছিল, তারা আজ দেশেই পরবাসী!
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামের রাউজান ও মীরসরাইয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি পরিদর্শন শেষে ‘সিটিজেনস অব হিউম্যান রাইটস’ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। আর সেখানেই রোবায়েত ফেরদৌস তার জ্বালাময় বক্তব্যে সরকারের কাপুরুষতা ফাঁস করে দিলেন।
রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, “১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় ‘অর্জন’ হচ্ছে—বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের স্থায়ীভাবে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুরা এখন এক ধরনের ‘দ্বিমুখী প্যারাডক্সে’ বা দ্বন্দ্বের মধ্যে আছেন—ভোটাধিকার প্রয়োগের আগে নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই, আবার ভোট দিয়ে ফিরে এসে নিজ ঘরে নিরাপদে থাকতে পারবেন কি না, সে নিয়েও তাদের মনে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে। মানে হলো, ভোট দিতে গেলে প্রাণ যেতে পারে, আর ভোট না দিলেও প্রাণ যেতে পারে! এটা কোন গণতন্ত্রের চেহারা?
তিনি ক্ষোভের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক দুর্নীতি আর তদবির সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেন, এসব কারণে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। রাষ্ট্র, আইন আর প্রশাসন যখন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে দূরে সরে যায়, তখন অসহায় মানুষের কাছে ঈশ্বরের কাছে বিচার চাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এটা কি একটা স্বাধীন দেশের নাগরিকের কাছে প্রত্যাশা করা যায়?
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও গত ১৮ মাসে অন্য ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালন করতে পারেনি—আমরা এমন মর্মান্তিক উদাহরণ দেখেছি।” মনে হয়, সংবিধানে যা লেখা আছে, তার বাস্তব চিত্র এখন মাটির নিচে চাপা পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ‘সিটিজেনস অব হিউম্যান রাইটস’-এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন লিখিত বক্তব্যে রাউজান ও মীরসরাইয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় প্রমাণ হয় যে হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল পরিবারগুলোর সবাইকে পুড়িয়ে হত্যা করা। এটা কোনো সাধারণ হামলা ছিল না, এটা ছিল পরিকল্পিত গণহত্যার চেষ্টা! বর্তমানে আক্রান্ত এলাকার মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন আর নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করছেন। কল্পনা করুন তো, নিজের ঘরের সামনে পাহারা দিতে হয়, নিজের নিরাপত্তার জন্য নিজেকেই পুলিশ হতে হয়—এটা কি মানুষের জীবন?
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এই সহিংসতার একটাই উদ্দেশ্য—আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখা। অর্থাৎ, আপনার ভোটাধিকার আছে, কিন্তু সেই ভোট দিতে গেলে প্রাণ হারাতে হবে—এটাই হলো বার্তা!
সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ ও তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক সেল গঠন; সহিংসতার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার; ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন; তাদের মানসিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা; এবং মানবাধিকার কমিশনের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নজরদারি নিশ্চিত করা।
এছাড়া জাকির হোসেন নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার ও নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যারা নিজেদের ক্ষমতার চেয়ে মানুষের প্রাণের দাম কম মনে করে, তাদের কাছে এই আহ্বান কি বাতাসের কথা নয়?
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com