1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৫ কোটি মানুষের গণভোটে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে: গোলাম পরওয়ার সামাজিক সুরক্ষায় বাংলাদেশকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি বাজিতপুরে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা পাইকগাছার ২ তরমুজ ব্যবসায়ী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত! সালিশি চুক্তি ভেঙে দ্বন্দ্ব তীব্র—লক্ষ্মীপুরে প্রবাসীর পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ রায়গঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত ​নওগাঁর শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা: এক বিরামহীন পথচলার নাম প্রফেসর মুহম্মদ ওয়ালীউল ইসলাম ​​নওগাঁ শহর এখন যানজটের নগরী: ফুটপাত দখল আর অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ জনজীবন নাজিরপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন, জনসচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচি নাজিরপুরে ডাকাত নিহতের ঘটনায় ডাকাত সর্দার গ্রেফতার

তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত নবাবগঞ্জ ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ চরমে, ক্ষোভে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

সাইদুর রহমান সুমন
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে
বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা। প্রখর রোদ ও অসহনীয় গরমে জনজীবন যখন এমনিতেই হাঁসফাঁস করছে, ঠিক তখনই ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানান, দিনে কয়েকবার এবং রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। ফলে শিশু, বয়স্ক ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই রাত জেগে সময় কাটাচ্ছেন।
উপজেলার ৩ নম্বর গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের শালদিঘী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা বৃদ্ধা ফুল জান বেগম বলেন, “গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে ঘুমাতে পারি না। বয়সের কারণে এই কষ্ট সহ্য করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বিনোদনগর ইউনিয়নের এক গৃহিণী বলেন, “ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। বিদ্যুৎ চলে গেলে তারা কান্নাকাটি করে, গরমে অস্থির হয়ে পড়ে।”
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে পরীক্ষার্থীরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না, যা তাদের পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতেও। ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা। বিদ্যুৎ না থাকায় লেদ কারখানা, মোটর গ্যারেজ, দুগ্ধ খামার, মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও অটো রাইস মিলেও উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
নবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, পিক আওয়ারে উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮.৫ মেগাওয়াট, অথচ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩.৫ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এতে উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক পর্যায়ক্রমে লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নবাবগঞ্জবাসী দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট জনজীবনে আরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com