পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বর্তমানে দিনে-রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে রাতের বেলায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বেশি হওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষক, রোগী, শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে কৃষিক্ষেত্রেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় মাঠের ফসল, সবজি, লিচু ও আম ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সেচ পাম্প চালানো সম্ভব না হওয়ায় জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে না, ফলে ফসল শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, দাশুড়িয়া শাখা সূত্রে জানা যায়, এই অঞ্চলে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ২৬১ জন। দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৩ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১ থেকে ১২ মেগাওয়াট, যা প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং বাড়ানো হচ্ছে।
নেসকোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এ কারণে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো ঈশ্বরদীতেও লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকাকেন্দ্রিক কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ বণ্টন হওয়ায় স্থানীয়ভাবে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।