1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য উপকরণ বিতরণ নওগাঁর মান্দায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক ধস ও যৌন নিপীড়ন আজ একটি সামাজিক ও প্রশাসনিক জরুরি অবস্থার ব্যবচ্ছেদ ফরিদপুরে দুর্বৃত্তের বিষ প্রয়োগে মৎস্য খামারের অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি নিউজ, ফুটেজ, বাইটস ও ছবি মসজিদের তালা ভেঙে দানবাক্সের টাকা চুরি পীরগঞ্জে সমকাল সমাজ উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে মৎস্য চাষীদের প্রশিক্ষণ বাজিতপুরে যৌথ অভিযানে যুবক গ্রেফতার নোবিপ্রবিতে ভুয়া সীলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জামালপুরের ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় এর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের মামলাগুলো যাচাই করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়ায় নেই নোবিপ্রবি: অর্থ সংকটের অভিযোগ,খেলোয়াড়রদের ক্ষোভ

রবিউল সানী
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে
কয়েক মাস ধরে চলছিল প্রস্তুতি। ভোরবেলার দৌড়, বিকেলের অনুশীলন, ঘাম ঝরানো প্রতিটি মুহূর্তে ছিল একটাই লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়ের মঞ্চে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) খেলোয়াড়দের। কারণ, অর্থ সংকট!
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স (ছাত্র-ছাত্রী) ও বাস্কেটবল (ছাত্র) প্রতিযোগিতা।
সোমবার (৪ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অ্যাথলেটিক্স মাঠে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে ৬ মে পর্যন্ত। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে মোট ৩০টি ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে দেশের বিভিন্ন  পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়।
কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আর প্রতিযোগী দলগুলোর পরিচিতি পর্বে প্রথম দিনেই জমে ওঠে ক্যাম্পাস। অ্যাথলেটিক্স, ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল—বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
কিন্তু এই উৎসবের বাইরে রয়ে গেছে নোবিপ্রবি। বিশ্ববিদ্যালয়টির খেলোয়াড়দের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে তাদের দলকে প্রতিযোগিতায় পাঠানো হয়নি।
শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হোসান নবীন বলেন , প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল না। ঘাটতি ছিল কেবল অর্থের।
“আমরা নিয়মিত অনুশীলন করেছি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে জানানো হলো, অর্থ নেই। তখন মনে হয়েছে, এতদিনের পরিশ্রম যেন এক মুহূর্তেই মূল্যহীন হয়ে গেলো।
খেলোয়াড়দের এই হতাশা কেবল ব্যক্তিগত নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কাঠামোর দীর্ঘদিনের সংকট।
নোবিপ্রবি স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি ও অ্যাথলেট জাহিদুল হক বলেন, বাজেট না বাড়ার বিষয়টি অনেক পুরোনো সমস্যা। “বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে শরীরচর্চা বিভাগের যে বাজেট, সেটি কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে। অথচ সময়ের সঙ্গে সব কিছুর খরচ বেড়েছে—যাতায়াত, আবাসন, খাবার, সরঞ্জাম। এই বাস্তবতায় পুরোনো বাজেট দিয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে,” বলেন তিনি।
নোবিপ্রবির কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী আবির আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সহশিক্ষামূলক অধিকার অবহেলিত হচ্ছে দিনের পর দিন।আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিলেও নোবিপ্রবি ফান্ডিং সংকটের অজুহাতে দল পাঠাতে পারেনি, যা শিক্ষার্থীদের জন্য হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয়(লন টেনিস বানানো যা অকার্যকর কিংবা রুম ডেকোরেশন) করলেও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয় না। শারীরিক শিক্ষা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে ব্যর্থ এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে, শুধু মৌখিক প্রতিবাদ নয়,শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আরও দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই স্পোর্টস ক্লাবকে।
নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন,” নোবিপ্রবি বরাবরই খেলাধুলার অঙ্গনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বর্তমানে ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় নোবিপ্রবি শুধুমাত্র অর্থের অভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেনি—যা আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য গভীরভাবে হতাশাজনক ও বেদনাদায়ক।
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা মনে করি, খেলাধুলা শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম নয়; এটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও সামগ্রিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমাদের জোরালো আহ্বান থাকবে—ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয় এবং খেলাধুলার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
খেলোয়াড়দের ভাষ্য থেকে স্পষ্ট, বিষয়টি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি; বরং দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল এটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন বা অন্যান্য খাতে বড় প্রকল্প থাকলেও খেলাধুলার ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীরচর্চা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও শরীরচর্চা দপ্তরের পরিচালক ড. রুহুল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, আর্থিক সংকটের বিষয়টি সঠিক নয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছে, আমাদের যে টিমগুলো রেডি আছে তারা সেখানে অংশগ্রহণ করছে। এ্যাথলেটের জন্য ভালো খেলোয়াড় নেই বা প্রস্তুতি নিতে পারেনি এজন্য ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারেনি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছে, সেখানকার জন্য বাজেটও দেয়া হয়েছে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com