1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রণয় ভার্মার সঙ্গে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সাক্ষাৎ, তিস্তা চুক্তি ও ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর দাবি কুশিয়ারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি জামালপুরে ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিন যুবকের মৃত্যুদন্ড মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ইচ্ছার প্রতিফলন ঈশ্বরদীর আবহাওয়া অফিস কাগজে-কলমে আধুনিক, বাস্তবে অচল লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার হেরোইন ব্যবসায়ী মুকুলকে গ্রেফতার করেছে পাটগ্রাম থানা পুলিশ। অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে খোলপেটুয়া নদীতে রাতে অভিযান গঙ্গাচড়ায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও বকেয়া বিলের মামলায় গ্রেফতার ৩ কেন্দুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবরটরি উদ্বোধন করলেন এমপি রফিকুল ইসলাম হিলালী সফল মৎস্য চাষিদের মাঝে বিনা মূল্যে বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ

সরকারি রেট জানেন না কৃষি কর্মকর্তারা: লাখাইয়ে হারভেস্টার মালিকদের ‘অদৃশ্য হাতে’ পিষ্ট কৃষক

পারভেজ হাসান লাখাই
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৭৭ বার পড়া হয়েছে
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় আগাম বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। একদিকে ভারী বৃষ্টি আর বন্যার আতঙ্ক, অন্যদিকে ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টারের’ মালিকদের সিন্ডিকেটে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ কৃষক। সরকারিভাবে ধান কাটার রেট প্রতি কানি (৩০ শতাংশ) ১৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও যন্ত্র মালিকরা কৃষকদের জিম্মি করে আদায় করছে ২৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। অভিযোগ উঠেছে, খোদ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও তদারকির অভাবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের এই ‘গলাকাটা’ পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, বন্যার আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তুলতে মরিয়া কৃষকদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে হারভেস্টার মালিকরা। সরকারি ভর্তুকি দিয়ে কেনা এসব যন্ত্র দিয়ে ধান কাটতে এলাকাভেদে অস্বাভাবিক হারে টাকা দাবি করা হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, হারভেস্টার মালিকদের এই বাড়তি টাকা আদায় যেন তাদের গলায় অদৃশ্য হাত দিয়ে চেপে ধরার মতো।

অবাক করার বিষয় হলো, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সরকারি রেট সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। এমনকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলামও সরকারি রেট জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন। কৃষকদের প্রশ্ন—উপজেলা কৃষি বিভাগ যদি ধান কাটার সরকারি হারই না জানে, তবে কৃষকের অধিকার রক্ষা হবে কীভাবে?

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ বছর প্রতি কানি ধান কর্তনের সরকারি হার ১৭৫০ টাকা। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফারিয়া আলম বলেন, “সরকারি রেটের চেয়ে বেশি টাকা নিলে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ দিতে হবে।”

তবে কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে এসে তদারকি না করার সুযোগেই হারভেস্টার মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বন্যাকবলিত এই দুর্দিনে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার পাওয়ার মতো সময় বা মানসিক অবস্থা কৃষকদের নেই।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি নিয়ম কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কৃষকদের এই সংকটময় মুহূর্তে উপজেলা কৃষি বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী হারভেস্টার মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com