আওয়ামী লীগের ‘৭২ থেকে ’৭৫ শাসন আমল এবং গত ১৭ বছরের পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ মুজিবের শাসন আমলে রংপুর-কুড়িগ্রাম অঞ্চলে শাড়ি না পেয়ে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জা নিবারণ করেছে বাসন্তী। বাসন্তীর ছবি উঠেছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। তার মানে কাপড় নেই, খাওয়া নেই, জীবনযাপনের কোনো ঠাঁই নেই- এই পরিস্থিতি ছিল ‘৭২ থেকে ’৭৫-এ। ঠিক একইভাবে শেখ হাসিনা ১৭ বছর বাংলাদেশে দুঃশাসন চালিয়ে, অপশাসন চালিয়ে গোটা জাতিকে কৃতদাস বানানোর চেষ্টা করেছিল।
আজ সোমবার নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান চালক দল। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক আরিফুর রহমান তুষার। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার বাবা স্বাধীনতার পর ‘৭২ থেকে ‘৭৫-এ দুর্ভিক্ষ দিয়েছিল, রাজনৈতিক বিরোধী নেতাদের হত্যা করত, কোনো বিরোধী কণ্ঠস্বর ছিল না, কোনো সংবাদপত্র ছিল না, কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না, কথা বলার কোনো অধিকার ছিল না। এদের রক্তের মধ্যে হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যা এবং একদলীয় কর্তৃত্ববাদ। এদের রক্তের মধ্যে মধ্যে আওয়ামী লীগ।
তিনি বলেন, এই ফ্যাসিস্টরা যখন বিরোধীদলে থাকে, তখন ভুলিয়ে-ভালিয়ে কথা বলার চেষ্টা করে, মিথ্যা কথা বলার চেষ্টা করে। তার বাবাও কিন্তু ১৯৭০ সালে নির্বাচনের আগে বলেছিল, আমরা চার আনা কেজি চাল খাওয়াব, সেই আমলের তুলনায় আমরা ছয় আনা কেজি আটা খাওয়াব, আমরা ছয় আনা কেজি সরষের তেল দিবো। কিন্তু তার পরিণাম দেখেছে মানুষ- আম গাছের পাতা চিবিয়ে খেয়েছে, মানুষ কলা গাছের পাতা চিবিয়ে খেয়েছে, তাদের দুঃশাসনে জীবন ধারণ করেছে কোনোভাবে, লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। এরা মিথ্যা কথা বলে ক্ষমতায় এসে ক্ষমতা গ্রাস করে প্রথম যে কাজটি করে, তা হলো নিজের পরিবারের আর্থিক উন্নয়ন।
তিনি আরো বলেন, এই পরিবারের আর্থিক উন্নয়ন করতে গিয়ে টাকা তো দেশে রাখা যাবে না, হঠাৎ করে ব্যাংকে অনেক টাকা হয়ে গেলে সেটা তো ধরে ফেলবেন, এজন্য ওরা টাকা পাচার করে। জনগণের টাকা বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে পাচার করেছে। ২৮ লক্ষ কোটি টাকা ১৬ বছরে শেখ হাসিনা এবং তার দোসররা, তার আত্মীয়-স্বজনরা, তার দলের লোকরা পাচার করেছে।
রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে এখন পর্যন্ত হচ্ছে কর্মসংস্থানের সরকার, বেকার তৈরি করার সরকার না। বিএনপি বেকার তৈরি করেনি, বিএনপি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। এই যে আজকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে কোটির উপরে লোক সেখানে কাজ করে, এই কোটির উপর লোকের কর্মসংস্থানের মূল নায়ক কে, জানেন? তিনি হলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই থেকে শুরু হয়েছে বিদেশী কর্মসংস্থান।