1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ট্রাম্প নিজেকে ‘বস’ বলতেই হেসে উঠলেন বিশ্বনেতারা মানবিক সহায়তা-শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে গৌরনদীর মুখ উজ্জ্বল করলেন তাওহীদ, ৯ হাজার ৩৩২ প্রতিযোগীর মধ্যে দ্বিতীয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ বৃত্তি অর্জন কসবা-আখাউড়ার কৃতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আড্ডায় জাইমা রহমান হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে পিরোজপুর দারুল কুরআন মহিলা আলিম মাদ্রাসায় ফল উৎসব ৩ বছর কারাভোগের পর দেশে ফিরলেন ৬ বাংলাদেশি নারী কারবালার মহান আত্মত্যাগ স্মরণে চেয়ারম্যান বাবুর আবেগঘন শোকবার্তা জয়দেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ আত্রাই-নওগাঁ মহাসড়ক কি ছিনতাইকারী-খুনিদের অভয়ারণ্য? আতঙ্কে জনপদ, আবারও লাশ উদ্ধার নেছারাবাদে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধবার জমি দখলের অভিযোগ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি: স্বপ্ন, সম্ভাবনা নাকি কঠিন বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ?

ফারহানা তাসনিম ইমি 
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে
একসময় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা হিসেবে দেখা হতো। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সৌর ও বায়ুশক্তিকে অলৌকিক সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা কি এতটাই সরল? প্রশ্ন উঠছে—নবায়নযোগ্য জ্বালানি কি সত্যিই সব দিক থেকে যোগ্য, নাকি এর পেছনেও রয়েছে ব্যয়, সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তব চ্যালেঞ্জের দীর্ঘ তালিকা?
বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটলেও এর পথ মোটেও মসৃণ নয়। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের সমস্যা, গ্রিড ব্যবস্থাপনার জটিলতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক সক্ষমতা—সব মিলিয়ে এই খাতের বাস্তব চিত্র অনেক বেশি জটিল।
জীবাশ্ম জ্বালানির আষ্টেপৃষ্ঠে বন্ধন ও বর্তমান সংকট:
আমাদের বর্তমান জ্বালানি মডেলটি মূলত আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এটি কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। বিশ্ববাজারে তেলের দামের সামান্য ওঠানামা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিংবা ডলারের ওপর চাপ—সবকিছু সরাসরি আমাদের কৃষি, শিল্প ও জনজীবনে প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিবছর বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিতে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে তা দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো দুটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব।
এই যখন অবস্থা তখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে শুধু পরিবেশ রক্ষার হাতিয়ার নয় বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ বাড়িয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে তেমনি এর সীমিত মজুত ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় লক্ষ্য অনেক, অর্জন কম:
বাংলাদেশ ২০০৮ সালে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল যে ২০২০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ আসবে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। কিন্তু বাস্তব চিত্র হতাশাজনক। ২০২৬ সালেও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি; দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো মোট সক্ষমতার মাত্র ৫ শতাংশের আশেপাশে (প্রায় ১,৬৯০ মেগাওয়াট) সীমাবদ্ধ। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই অংশ ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
নতুন সরকারি নীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য সক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, স্বচ্ছতার অভাব এবং সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের অভাবই এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার মূল কারণ।
ভূমির সীমাবদ্ধতা: অন্ন বনাম বিদ্যুৎ বিতর্ক:
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে সবচেয়ে বড় তর্কের জায়গা হলো ভূমি। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বিপুল পরিমাণ জমির প্রয়োজন হয়। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যেখানে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিজমি রক্ষা করা বাধ্যতামূলক, সেখানে বড় আকারের সৌর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে এই ধারণাটিকে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতো বিশেষজ্ঞরা কিছুটা অপপ্রচার বলে মনে করেন। তার মতে, প্রযুক্তির উন্নতির ফলে আগে যে পরিমাণ জমি লাগত, এখন তার অর্ধেক জমিতেই একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এছাড়া কৃষিজমি নষ্ট না করে শিল্পকারখানার ছাদ, নদী, হাওর ও বিল ব্যবহারের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
সৌরবিদ্যুতের বহুমুখী সম্ভাবনা:
ক. ছাদভিত্তিক সৌর প্যানেল:
শিল্প ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ ব্যবহার করে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এই মডেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে সরকারের বড় বিনিয়োগ লাগে না এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা নিজেরাই এগিয়ে আসেন। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খরচ ২০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।
খ. সৌর সেচপাম্প, কৃষিতে ডলার সাশ্রয়:
দেশে প্রায় ১৫ লাখ ডিজেলচালিত সেচপাম্প রয়েছে, যা বছরে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পোড়ায়। এই পাম্পগুলো ধাপে ধাপে সৌরচালিত করা গেলে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব। ইতিমধ্যে ১ লাখের বেশি সৌর সেচপাম্প স্থাপিত হয়েছে এবং কৃষকরা জানাচ্ছেন যে ডিজেলের তুলনায় তাঁদের সেচ ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
গ. ভাসমান সৌর ও সোলার ফিশারি:
নদী ও হাওরে ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্যানেলের নিচে মাছ চাষ করা সম্ভব। এতে পানির বাষ্পীভবন কমে এবং রোদ থেকে সুরক্ষা পাওয়ায় মাছের উৎপাদন ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।
তিস্তা জলাধার: কৃষি ও জলবিদ্যুতের নতুন দিগন্ত:
উত্তরাঞ্চলের পানির সংকট কাটাতে প্রস্তাবিত তিস্তা জলাধার প্রকল্পটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। ডালিয়ার উজানে একটি জলাধার নির্মাণ করলে বর্ষার পানি জমিয়ে রেখে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা দেওয়া যাবে। কারিগরি সমীক্ষা অনুযায়ী, এই জলাধার থেকে প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এটি আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও অর্থায়নের মারপ্যাঁচ:
নবায়নযোগ্য জ্বালানির সবচেয়ে বড় বাধা হলো এর উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয়। এছাড়া নীতিগত বৈষম্যও কম নয়। আমদানিকৃত ইনভার্টারের ওপর প্রায় ৩৭ শতাংশ কর ও ভ্যাট দিতে হয়, যা প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিতে অনীহা প্রকাশ করে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক ৫-৬ শতাংশ সুদে সবুজ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে, কিন্তু এই তথ্য সব উদ্যোক্তার কাছে পৌঁছায়নি। আবার বিপিডিবি বা পিডিবির মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা কেন বড় নবায়নযোগ্য প্রকল্প নিতে পারছে না তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সূর্য না থাকলে বিদ্যুৎ কোথায়? সঞ্চয় ও গ্রিড আধুনিকীকরণ:
নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর অনিয়মিত উৎপাদন। সূর্য না থাকলে সৌরশক্তি এবং বাতাস না থাকলে বায়ুশক্তি পাওয়া যায় না। এর সমাধানের জন্য প্রয়োজন ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS)। বৈশ্বিকভাবে লিথিয়াম ব্যাটারির দাম গত ১০ বছরে ৯০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশে এর বড় আকারের ব্যবহার এখনো শুরু হয়নি। গ্রিডকে আধুনিকীকরণ না করলে নবায়নযোগ্য শক্তির উচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
চীন, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের মডেল:
চীন গত পাঁচ বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যে বিনিয়োগ করেছে তা বাকি বিশ্বের মোট বিনিয়োগের সমান। ভিয়েতনাম ফিড-ইন ট্যারিফ নীতির মাধ্যমে মাত্র চার বছরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন শূন্য থেকে ১৭ গিগাওয়াটে নিয়ে গেছে। পাকিস্তানে সরকার সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে বিশেষ শুল্ক ছাড় দিয়ে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রীও এখন পাকিস্তানে এই মডেল অনুসরণ করে ৫ বছরের কর অবকাশ (Tax Holiday) এবং নামমাত্র শুল্কে সরঞ্জাম আমদানির সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও নীতির মাঠ:
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার প্রযুক্তিগত নয়, বরং নীতিগত সমস্যার কারণে ধীর। বর্তমানে স্রেডা (SREDA) এবং বিপিডিবি (BPDB) এই খাত দেখভাল করলেও তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। সিপিডির মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন বাতিল করা প্রয়োজন। কারণ এটি স্বচ্ছ প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে। দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা থাকলে সৌরবিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৭-৮ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব।
পরিবেশ ও মানবিক দিক: জৈব জ্বালানির সতর্কতা:
নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলতে অনেক সময় বায়োফুয়েল বা জৈব জ্বালানির কথা বলা হয়। তবে পরিবেশবিদরা এক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানি তৈরি করার ফলে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। আমাদের মতো দেশে খাদ্যশস্য নষ্ট করে জ্বালানি তৈরি করা কোনোভাবেই মানবিক বা যোগ্য সমাধান হতে পারে না। বরং বর্জ্য বা আবর্জনা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত যেন মিথেন গ্যাস বের হয়ে পরিবেশের ক্ষতি না করে।
নবায়নযোগ্য কি আসলে যোগ্য?
প্রশ্নটির উত্তর হলো—নবায়নযোগ্য জ্বালানি শুধু যোগ্য নয়, এটিই আগামীর একমাত্র অনিবার্য পথ। তবে একে কার্যকর করে তুলতে হলে আমাদের ভূমি সংকট, উচ্চ শুল্ক এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে বাস্তবভিত্তিক নীতি দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য সাশ্রয়ী ঋণ, কর ছাড়, ছাদভিত্তিক সৌরের প্রসার এবং তিস্তা জলাধারের মতো বহুমুখী প্রকল্পের বাস্তবায়নই হবে টেকসই সমাধানের মূল চাবিকাঠি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমাদের ডলার সংকট মোকাবিলা এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই—আমরা কি আমদানিনির্ভর অনিশ্চয়তার পথে থাকব, নাকি নিজস্ব অফুরন্ত প্রাকৃতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে একটি সমৃদ্ধ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ব? নবায়নযোগ্য জ্বালানিই হোক আমাদের আগামীর শ্রেষ্ঠ এবং যোগ্য সঙ্গী।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com