1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
এই জনপদ আমাদের সন্তানদের জন্য উপযোগী করে রাখতে হবে- প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম কালিগঞ্জে মৎস্য ঘেরের বাসায় আগুন, দখলচেষ্টা ও মাছ লুটের অভিযোগ সংবাদ সম্মেলন এই সেই সন্ত্রাসী ইমাম হোসেন প্রকাশ্যে এই চাইনিজ কুড়াল টি দিয়ে ২জনকে কুপিয়ে জখম করেছে চিরিরবন্দরে ইয়াবাসহ আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা আমরা কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেইনি, দিবোও না‌- এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল জসীমউদ্দীন ইতি বগুড়ায় সংবাদ বুলেটিন আয়োজিত ক্বিরাত প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে কৃষকের রান্নাঘরে দুর্বৃত্তের আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেল বসতঘর ফুলপুরকে দূনীতিমুক্ত, আধুনিক পরিচ্ছন্ন উপজেলা গড়তে চান সিরাজুম মুনীর রিফাত বগুড়ায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কলাউজান শ্রীশ্রীকৃষ্ণাদ্বৈত মন্দিরে ধর্মসম্মেলন

নওগাঁয় দীর্ঘ ২৫ দিনেও নেই কোন অগ্রগতি গৃহবধূ আত্নহত্যার প্ররোচনা মামলায়

সাইফুল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ জুলাই, ২০২৪
  • ৩৯৬ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর সাপাহারে স্বামী ও শশুর শাশুড়ির অমানুষিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে নিগার সুলতানা (৩৩) নামের এক গৃহবধূ কিটনাশক পানে আত্মহত্যার ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশের নিরব ভূমিকায় নিহতের পরিবার শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

নিহত গৃহবধু নিগার সুলতানার পিতা সাপাহার উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মজিবুর রহমান চৌধুরীর দায়েরকৃত এজাহার সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর পূর্বে সাপাহার উপজেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামের আঃ সালাম এর ছেলে আসামী গোলাম মোস্তফার সহিত তার মেয়ে মোছাঃ নিগার সুলতানা (৩৩) এর ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়।জামাই গোলাম মোস্তফা, তার পিতা আঃ সালাম ও মা রাহেলা বেগম তার মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে শরীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো। স্বামী ও তার পরিবারের সকল যন্ত্রনা সহ্য করে নিগার সুলতানা স্বামীর ঘর সংসার করে আসছিলেন এরিমাঝে তাদের ঘর আলো করে মা বাবার কোলে ২টি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করেন।

দু’টি সন্তানের কথা চিন্তা কষ্ট স্বিাকার করে সে তার স্বামীর ঘর করে আসছিলো।ঘটনার দিন ৯ জুন সামান্য বিষয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকটি হলে স্বামী, শশুর, শাশুড়ী সকলে মিলে গৃহবধুকে শারিরীক নির্যাতনের এক পর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং তাকে আত্নহত্যার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এর পর গৃহবধু নিগার সুলতানা তাদের নির্যাতন সইতে না পেরে সকলের অজান্তেই কীটনাশক পান করে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তার স্বামী গোলাম মোস্তফা অসুস্থ্য অবস্থায় তার স্ত্রী নিগার সুলতানাকে নিয়ে সাপহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকগন গৃহবধূর অবস্থা খারাপ দেখে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতারে রেফার্ড করেন।

মেয়ের অসুস্থ্যতার সংবাদ পেয়ে গৃহবধুর পিতা-মাতা ছুটে এসে তাৎতক্ষনিক মুমূর্ষু অবস্থায় মেয়েকে নিয়ে রাজশাহী নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাকালীন অবস্থায় গত ১০ জুন সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী রাজপাড়া থানায়অভিযোগ করে ময়না তদন্ত শেষে মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসার পথে তানোর পৌছালে স্বামী গোলাম মোস্তফা স্ত্রীর লাশবাহী গাড়ী থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। এরপর লাশের গাড়ি সাপাহার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মোড় পার হলে গোলাম মোস্তফার আত্মীয় স্বজনরা মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ীর পথ রোধ করে গাড়ী থেকে মোস্তফার মা ও ছোট ছেলে সন্তান সহ নিহত গৃহবধূর সোনার গহনা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এঘটনায় নিগার সুলতানার পিতা মজিবর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে তার জামাই গোলাম মোস্তফা, তার বাবা মোঃ আঃ সালাম ও মা রাহেলা বেগমকে আসামী করে দন্ডিবিধির ৩০৬ ধারা মোতাবেক সাপাহার থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার বিষয়ে নিহত নিগার সুলতানার বড় ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া সাব্বির হোসেন (১২) এর সাথে কথা হলে সে বলে যে, প্রায় সময় তার বাবা গোলাম মোস্তফা তার মাকে কারণে অ-কারণে মারপিট ও অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করত।তার সাথে সাথে আমার দাদা,দাদীরাও মা’কে আত্নহত্য করে মরার জন্য বিভিন্ন ভাবে গালিগালাজ করত।

ঘটার দিন অসুস্থ্য অবস্থায় আমি আমার মা’র নিকট গেলে মা’ আমাকে বলে যে মারপিটের পরে তোর বাবা, দাদা, দাদী মিলে জোরপূর্বক আমাকে বিষ খাইয়ে দিয়েছে। একই রকম বক্ত্যব্য শিশুটি থানা পুলিশের উপস্থিতিতেও বলেছে।এরপরেও পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা দেখে আমি আমার মেয়ে মৃত্যুর সঠিক বিচার পাব কি না সে বিষয়ে চিন্তিত ও শঙ্কিত আছি। আমার মেয়ে হত্যার সঠিক বিচার পাওয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।এবিষয়ে সাপাহার থানার ওসিকে না পেয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মিলন কুমার সিংহ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান যে, আমরা একাধিকবার আসামীর বাড়ীতে অভিযান চালিয়েছি বর্তমানে আসামী পলাতক রয়েছে। এর পরেও লাশের ময়না তদন্তের রিপোর্ট এখনও হাতে পাইনি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মামলা তার গতিতেই চলবে বলেও জানান তিনি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com