Crime

মহাখালী বাস টার্মিনালে বাসে রহস্যজনক আগুন: নেপথ্যে আ.লীগ নেতা ইমরান?
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার আকস্মিকতা ছাপিয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার সন্দেহজনক ভূমিকা ও বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ১টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালে পার্কিংয়ে থাকা একটি বাসে হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার ঠিক পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বনানী থানাধীন ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য ইমরান হোসেন বাবু তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে মহাখালীর অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও পোস্ট করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “মহাখালী বাস টার্মিনালে কেবা কাহারা বাসে আগুন দিয়ে চলে যায়।”
ঘটনা ঘটার সাথে সাথে এবং ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই ইমরান হোসেন বাবুর এমন পোস্ট দেখে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি কীভাবে এত দ্রুত তিনি জানতে পারলেন এবং ভিডিও করলেন—তা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হতে থাকে।
সন্দেহের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় রাত দেড়টার পর দেওয়া ইমরানের দ্বিতীয় ফেসবুক পোস্টটি। প্রথম পোস্টের কিছুক্ষণ পরই তিনি নতুন আরেকটি পোস্টে চরম উসকানিমূলক ভাষায় লেখেন, “তোদের যদি ক্ষমতা থাকে শেখের বেটিকে আটকে দেখাইস, শেখ হাসিনা একাই একশ।”
এই দুটি পোস্টের পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গন ও সর্বসাধারণের মধ্যে সন্দেহ জোরালো হয়ে উঠেছে যে, মহাসড়ক ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ইমরান হোসেন বাবু নিজেই কিংবা তাঁর অনুসারীরা এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে জড়িত থাকতে পারেন। নাশকতা চালিয়ে তা ফেসবুকে প্রচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক লাভ হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছিল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অগ্নিসংযোগের বিষয়ে তেজগাঁও ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার জানান, “রাত ১টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালে একটি বাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমাদের ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।”
এদিকে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ইমরান হোসেন বাবুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
টার্মিনালের সাধারণ পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি উঠেছে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top