লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় গোপন লেনদেন আর ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে একের পর এক অবৈধ বাংলা ইটভাটা। গত মৌসুমে উপজেলায় ইটভাটার সংখ্যা ছিল ৩৩টি, যার মধ্যে বৈধ নিবন্ধন ছিল মাত্র একটি। এবার নতুন মৌসুম শুরু হতে না হতেই আরও সাতটি অবৈধ ভাটা চালু হয়েছে। বর্তমানে রামগতিতে ভাটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০টিতে। প্রতিটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে কৃষিজমি ধ্বংস করে। এসব ভাটায় কাঠ পোড়ানো কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। ফসলি জমি থেকে নেওয়া মাটি, এবং ভাটার চারপাশে থাকা ধান, সয়াবিন, বাদাম গাছসহ নানা রবিশস্য এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ভাটা স্থাপনের ফলে বসতবাড়ি, হাটবাজার ও গাছপালার বাগানগুলোও ক্ষতির মুখে। এলাকাবাসী বহুবার বিক্ষোভ-মিছিল, মানববন্ধন করেও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো প্রতিকার পায়নি। ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৯ অনুযায়ী, ইটভাটা স্থাপনে সরকারের ১০টি দপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন, এবং লোকালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরত্বে ভাটা স্থাপনের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে রামগতিতে এ নিয়মের কোনো বালাই নেই। স্থানীয় ইটভাটা মালিকদের একাংশ জানায়, তারা কাগজপত্রের জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু এখন প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে রামগতির পরিবেশ ও কৃষি দুটোই চরম ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে সচেতন মহল। এলাকাবাসী এখন দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান দাবি করছে।