গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে হত্যা করে বিছানায় মরদেহ রেখে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্নহত্যার নাটক সাজিয়েছে ঘাতক স্বামী । খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের মাথা ও শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল
শুক্রবার (২ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার গিলার চালা গ্রামের জৈনেক রুবেলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আম্বিয়া খাতুন(৪৫) উপজেলার বেড়াইদের চালা গ্রামের প্রয়াত আ. হেকিমের মেয়ে। গ্রেফতার মো. আসাদ(৪৮) উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরামা গ্রামের মো. আ. মতিন আকন্দের ছেলে। আসাদ স্ত্রীকে নিয়ে রুবেলের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, আসাদ আম্বিয়ার দ্বিতীয় স্বামী। সম্প্রতি আসাদ গোপনে আরো এক বিয়ে করে। বিষয়টি জানার পর আসাদের সাথে আম্বিয়ার প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো ।শুক্রবার ঝগড়া করে স্ত্রীকে মারপিট করে আসাদ বরামা গ্রামের বাড়িতে চলে যান। আম্বিয়া সেখানে গেলে আসাদের বাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে। সেখান থেকে রাত বারোটার দিকে আসাদ স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় যান। রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। সকালে আসাদ জানায় তার স্ত্রী আত্নহত্যা করেছে।
নিহতের মেয়ে শারমিন জানান, আসাদ আমার মায়ের দ্বিতীয় স্বামী। শনিবার ভোর পাঁচটার দিকে জানতে পারি মা আত্নহত্যা করেছেন। দৌড়ে গিয়ে দেখি ঘরের বিছানায় মায়ের মরদেহ পড়ে আছে। আমার মায়ের মাথা, শরিরে আঘাতের চিহ্ন এবং শরীরে রক্ত লেগে রয়েছে ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে নিহতের স্বামী রাতের কোন এক সময় স্ত্রীকে হত্যা করে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে আত্নহত্যার ঘটনা সাজিয়েছে ঘাতক স্বামী। ঘটনাস্থল থেকে স্বামীকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা চলমান।