ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় অবস্থিত আব্বাছিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসায় আজ দাখিল পরীক্ষার্থীর উপর ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও দুঃখজনক হামলার ঘটনা। মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ ছাত্রদের মধ্যকার সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব থেকে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি এবং হাতাহাতি এক পর্যায়ে রূপ নেয় ছুরিকাঘাতে, যার ফলে একজন পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়।
আহত শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তাগাছা থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা আজকের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এর আগেও দোয়া মাহফিলের দিনে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছিলো। তখন আমরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলাম।”
তারা জানান, “স্মারকলিপিটি প্রথমে মাদ্রাসা প্রিন্সিপালের কাছে জমা দেওয়া হয়। তখন তিনি বলেন, ‘এটা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দিতে হবেনা, আমি বিষয়টি দেখছি।’
আজকের ঘটনায় সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ ছাত্রদের মধ্যে এমন চরম সহিংসতা মাদ্রাসা পরিবেশে নিরাপত্তাহীনতা ও শৃঙ্খলার অভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো ছিলো:
১. মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে নিয়মিত পুলিশ টহল নিশ্চিত করা।
২. মাদক সেবন ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
৩. ঘাট ও মাদ্রাসা মাঠে বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা।
৪. অভ্যন্তরীণ কিশোর গ্যাং বা গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. পূর্ব-দক্ষিণ কোণের অনিরাপদ গেট দ্রুত সংস্কার বা চিরতরে বন্ধ করা।
৬. মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কার্যকর কমিটি গঠন ও প্রশাসনের তদারকি জোরদার করা।
একজন দাখিল পরীক্ষার্থী বলেন, “আমরা পড়তে এসেছি, জীবন দিতে নয়। এভাবে চলতে থাকলে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হবে।” অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা প্রশাসনের প্রতি জোরালো হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা এখন বলছে, “কঠোর পদক্ষেপ এবং অপরাধীদের বিচার না হলে আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না—আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির দিকে যাব।”