সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব বার্ন-এর এক যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীতে জীবনের সূচনা কোনো ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার ফল নয়, বরং এক আকস্মিক মহাজাগতিক সংঘর্ষের কারণে সম্ভব হয়েছিল। পানি ও কার্বনসমৃদ্ধ Theia নামের এক গ্রহের সাথে সংঘর্ষই পৃথিবীতে জীবনের উপাদান নিয়ে আসে।
Science Advances-এ প্রকাশিত এই গবেষণা জানায়, সৌরজগতের জন্মের তিন মিলিয়ন বছরের মধ্যেই পৃথিবীর রাসায়নিক গঠন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ের “প্রোটো-পৃথিবী” ছিল সম্পূর্ণ শুকনো ও শিলাময়—যেখানে পানি বা জীবনের জন্য অপরিহার্য কোনো উদ্বায়ী উপাদান ছিল না।
বিজ্ঞানীরা ম্যানগানিজ-৫৩ থেকে ক্রোমিয়াম-৫৩ ক্ষয়ের ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত সূক্ষ্ম আইসোটপ বিশ্লেষণ করেন। এর ফলাফলে দেখা গেছে, জীবনের আবির্ভাব ব্যাখ্যা করা সম্ভব কেবল তখনই, যদি পৃথিবী পরে বাইরের কোনো উৎস থেকে পানি ও কার্বন পেয়েছিল।
প্রধান গবেষক ড. পাসকাল ক্রুটাশ বলেন:
“প্রোটো-পৃথিবী শুরুতে ছিল একেবারেই শুকনো ও শিলাময়। Theia-র সাথে সংঘর্ষই সম্ভবত পানি ও অন্যান্য উপাদান এনে দেয়, যা পরবর্তীতে জীবনকে সম্ভব করে।”
সহ-লেখক প্রফেসর ক্লাউস মেজগার বলেন:
“পৃথিবীর জীবনবান্ধব পরিবেশ কোনো নিশ্চিত প্রক্রিয়ার ফল নয়, বরং এক দেরিতে ঘটে যাওয়া আকস্মিক গ্রহীয় সংঘর্ষের ফল।”
এই গবেষণা পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসকে নতুনভাবে আলোকিত করছে। একইসাথে এটি দেখাচ্ছে যে মহাবিশ্বে জীবনবান্ধব গ্রহ হয়তো আমাদের ধারণার তুলনায় অনেক কম—কারণ এগুলোর অস্তিত্ব নির্ভর করে কেবল দূরত্ব বা আকারের ওপর নয়, বরং ভাগ্য নির্ধারিত মহাজাগতিক ঘটনার ওপরও।
সূত্র: Scitechdaily.com