সারা দেশের মতো সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল টেকনিশিয়ান ও ফার্মাসিস্টরা। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ন্যায্য দাবি দশম গ্রেড বাস্তবায়ন-এর দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মাঠে-ময়দানে, মানুষের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে যে স্বাস্থ্যকর্মীরা জান-মানুষের সেবা দিতে নিজের জীবন বিপন্ন করে কাজ করেছেন—আজ তাদের সেই ত্যাগ-সম্মানের যথার্থ মূল্যায়ন না হওয়ায় চরম হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, ল্যাব, রেডিওলজি-ইমেজিং, ফার্মেসি থেকে শুরু করে হাসপাতালের সব জরুরি বিভাগে এই কর্মীরা যেভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছেন, তা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভরসা বলেও তারা উল্লেখ করেন।
কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, ২০১৮ সালে গৃহীত জাতীয় বেতন কাঠামোর আলোকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত থাকলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। বহুবার স্মারকলিপি, আবেদন, মানববন্ধন, আলোচনার পরও তাদের দাবি উপেক্ষিত থাকার অভিযোগ করেন তারা।
একজন টেকনোলজিস্ট আবেগ নিয়ে বলেন—
“আমরা দিন-রাত মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করি। রোগীকে সঠিক রিপোর্ট, সঠিক ওষুধ, সঠিক ডায়াগনস্টিক সেবা দিতে আমরা যেকোনো ঝুঁকি নিই। কিন্তু আমাদের প্রাপ্য সন্মান ও গ্রেড বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা বারবারই বঞ্চনার শিকার হচ্ছি।”
আজকের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে আউটডোর ও বিভিন্ন বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও জরুরি সেবা খোলা রাখা হয়। তবে আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি পূরণ না হলে সারাদেশে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যকর্মীর আরও একজন বলেন—
“আমরা কারও বিপক্ষে নই, আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। দশম গ্রেড বাস্তবায়ন আমাদের শুধু একটি গ্রেড নয়, এটি আমাদের শ্রম, ত্যাগ ও পেশাজীবনের সম্মান।”
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের এই আন্দোলন ইতোমধ্যে সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই পারে এই মূল্যবান জনগোষ্ঠীর মনোবল ফিরিয়ে আনতে এবং স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে।