1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যারা কান কথা বলে ও তেল মারে, তাদের থেকে দূরে থাকুন: তারেক রহমানকে কর্নেল অলি ৫ কোটি মানুষের গণভোটে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে: গোলাম পরওয়ার সামাজিক সুরক্ষায় বাংলাদেশকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি বাজিতপুরে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা পাইকগাছার ২ তরমুজ ব্যবসায়ী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত! সালিশি চুক্তি ভেঙে দ্বন্দ্ব তীব্র—লক্ষ্মীপুরে প্রবাসীর পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ রায়গঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত ​নওগাঁর শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা: এক বিরামহীন পথচলার নাম প্রফেসর মুহম্মদ ওয়ালীউল ইসলাম ​​নওগাঁ শহর এখন যানজটের নগরী: ফুটপাত দখল আর অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ জনজীবন নাজিরপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন, জনসচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচি

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রূপরেখা

শিশির আসাদ 
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই মাসটি কেবল একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং নতুন এক সমাজ-মনস্তত্ত্বের জন্মও বটে। দীর্ঘদিন ধরে জনগনের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষ, অবিশ্বাস, অন্যায় আর বৈষম্যের যে আগুন নিঃশব্দে ছড়িয়ে ছিল তা হঠাৎই বিস্ফোরিত হয়ে উঠল দেশের তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে। কোটা-সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হতে শুরু হলেও আন্দোলনের দায়-দায়িত্ব দ্রুতই বদলে গেল; তা আর কেবল একটি চাকরির সুবিধা বা অসুবিধার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকল না। বরং তা হয়ে উঠল রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা, গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস এবং স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ নিয়ে এক গভীর আত্মসমালোচনার মুহূর্ত।
অভ্যুত্থানটি ছিল না হঠাৎ কোনো বিস্ময় বরং দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা ক্ষোভের এক পরিণতি। বহু বছর ধরে জমা হওয়া অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি, বিচারহীনতা, এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতি রাষ্ট্রীয় অনীহা সব মিলেই তৈরি হয়েছিল এক অস্থির আবহ। সেই আবহই জুলাইয়ে রূপ পেল গণমানুষের বিস্ফোরণাত্মক প্রতিরোধে। কেউ কেউ একে বিপ্লব বলেছে, কেউ বলে অভ্যুত্থান, আবার কারও কাছে এটি ছিল গণজাগরণের স্বতঃস্ফূর্ত রূপ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা যেভাবেই ব্যাখ্যা করুন না কেন, একটি জিনিস স্পষ্ট বাংলাদেশে মানুষ আবারও বুঝেছে যে পরিবর্তনের আসল শক্তি জনগণের মধ্যেই নিহিত।
অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামোতে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে ঠিকই, কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে এক নতুন অনিশ্চয়তাও। পুরনো শাসন ব্যবস্থার পতন যতটা দ্রুত হয়েছে, নতুন পথচলা ততটা সহজ হচ্ছে না। কারণ পরিবর্তনের সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো পরিবর্তনকে টিকিয়ে রাখা। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো, রাজনৈতিক চর্চা, সামাজিক মূল্যবোধ কোনোটিই রাতারাতি বদলে যায় না। বরং পরিবর্তনকে ধরে রাখতে প্রয়োজন সুদীর্ঘ সময়, ধৈর্য, কাঠামোগত সংস্কার এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
তরুণ প্রজন্ম এই অভ্যুত্থানের প্রাণশক্তি। তারা দেখিয়েছে এই দেশকে নতুনভাবে চিনতে হলে পুরনো রাজনীতির ছাঁচ ভাঙতেই হবে। তাদের কাছে রাজনীতি মানে আর ক্ষমতার দর-কষাকষি নয়; বরং দায়িত্ব, ন্যায্যতা, সাম্য, স্বচ্ছতা এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধ। এই প্রজন্মের ভাষা আলাদা তারা আর ছদ্মগণতন্ত্র মেনে নিতে রাজি নয়। অতএব জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন এক শক্তিমাত্রার আবির্ভাব ঘটেছে যেখানে দল নয়, মানুষের অধিকারের প্রশ্নই মুখ্য হয়ে উঠছে।
তবে রাজনৈতিক শূন্যতার মধ্যেও এক ধরনের অস্থিরতা রয়েছে। পুরনো শক্তিগুলি দুর্বল হয়ে পড়লেও পুরোপুরি বিলীন হয়নি। নতুন নেতৃত্বের সামনে রয়েছে স্বপ্ন, কিন্তু অভিজ্ঞতার ঘাটতি। জনগণের প্রত্যাশা সীমাহীন, কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা কঠিন। এ অবস্থায় যে কোনো ভুল পদক্ষেপ আবারও দেশের পরিবেশকে অস্থির করে তুলতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ যেমন অসীম, ঝুঁকিও তেমনি প্রবল।
অভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো। কারণ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয় মানুষ চায় ব্যবস্থার পরিবর্তন। বছরের পর বছর ধরে আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব, নিয়োগে অনিয়ম, বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি, এবং দায়বদ্ধতার অভাব এসবের বিরুদ্ধে জনমানস আজ অনেক বেশি সংবেদনশীল। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক চায় একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামো যেখানে মানুষের মর্যাদা এবং সুযোগের সমতা বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
অর্থনীতিও এই পরিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনীতিতে যে চাপ ফেলে তা সুদূরপ্রসারী। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, উৎপাদন খাতের সংকট, বৈদেশিক ঋণের চাপ, এবং মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা সব মিলেই মানুষের জীবনযাত্রা কঠিনতর হয়ে উঠেছে। অভ্যুত্থানের পর তাই রাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। কারণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যতই বড় অর্জন হোক না কেন, মানুষের জীবনমান উন্নত না হলে সেই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা যায় না।
কিন্তু এতসব সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আশার আলো আছে। বাংলাদেশ আজ এমন এক প্রজন্মের হাতে যারা প্রযুক্তিনির্ভর, যুক্তিবাদী, সাহসী এবং রক্ষণশীল রাজনীতির প্রতি ক্রমশ অনাগ্রহী। তারা গণতন্ত্রের মূল্য বোঝে, স্বাধীনতার মর্যাদা জানে এবং রাষ্ট্রকে জনগণের সেবক হিসেবে দেখতে চায়। এই প্রজন্মের চাপই ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে নতুন পথে নিতে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থান তাই কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি ছিল বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের পুনর্নির্মাণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন রয়ে যায় আমরা কি এই পরিবর্তনকে টিকিয়ে রাখতে পারব? নাকি আগের মতোই সময়ের সাথে সাথে সবকিছু আবারও পুরনো ছন্দে ফিরে যাবে?
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এখনো খোলা খাতার মতো। এই খাতায় কোন গল্প লেখা হবে তা নির্ভর করছে আমাদের বর্তমান সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং সামাজিক সততার উপর। পরিবর্তনের জন্য যে শক্তি আমরা দেখিয়েছি তা যদি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে পারি, তবে বাংলাদেশ সত্যিই একটি নতুন গল্প রচনা করতে পারবে। আর যদি না পারি তবে ইতিহাস হয়তো আরেকবার আমাদের সামনে একই প্রশ্নই ছুড়ে দেবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com