সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় হঠাৎ করে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় খামারিরা। চোরের ভয়ে রাত জেগে গোয়ালঘর পাহারা দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেকেই নির্ঘুম রাত পার করছেন নিজেদের গবাদিপশু রক্ষায়।
বুধবার (৬ মে) ভোররাতে উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের ছোট কুড়া এবং ভদ্রঘাট ইউনিয়নের নান্দিনা কামালিয়া গ্রামে সংঘবদ্ধ চোরচক্র ট্রাকযোগে হানা দেয়। এ সময় দুই কৃষকের বাড়ি থেকে মোট ৫টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট কুড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের বাড়ি থেকে ৩টি এবং নান্দিনা কামালিয়া গ্রামের সুবেলের বাড়ি থেকে ২টি গরু চুরি হয়।
একই রাতে আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে চুরির চেষ্টা চালানো হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে আলী আকবর ভুইয়ার বাড়ির গেটের তালা ভাঙার সময় বিষয়টি টের পেয়ে গেলে চোরেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় রাস্তার পাশে একটি সন্দেহজনক ট্রাক দেখা যায়, যা দিয়ে চোরচক্র পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি বেড়ে গেছে। কয়েকদিন আগে এক অটোরিকশা চালকের বাড়ি থেকে ভ্যানের ব্যাটারি চুরি এবং নান্দিনা কামালিয়া বাজারের কয়েকটি দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
বিশেষ করে ঈদুল আজহা সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত খামারিরা সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অনেকেই সর্বস্ব বিনিয়োগ করেছেন গবাদিপশু পালনে। এমন অবস্থায় গরু চুরি হলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, ট্রাক ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে চুরি হওয়ায় এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রের কাজ। তারা দ্রুত এসব চুরি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জানান, ঘটনাটি জানার পরই পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন ও রাতের টহল জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “চুরি প্রতিরোধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে এবং সামনে ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হবে, যাতে কোনো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”