1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মিঠাপুকুরে উপজেলা নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নন্দীগ্রামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে ডিবির অভিযানে তিন নারী ১৭ পিস ইয়াবাসহ আটক ভাঙ্গুড়ায় এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত নিখোঁজের একদিন পর ইটভাটার পুকুরে ভেসে উঠেছে কিশোরীর মরদেহ স্বাধীনতা পদক গ্রহণ করলেন হানিফ সংকেত মুঘল সম্রাট বাবরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তুলনা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলে কার্ডে অনিয়ম ও ভুয়া সাংবাদিকতার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে জেলেদের মানববন্ধন সাতক্ষীরায় মোজাহেরের তেলের পাম্পে তীব্র জ্বালানি সংকট, ভোগান্তিতে বাস মালিক ও যাত্রীরা

কুষ্টিয়ায় লড়াই হবে নৌকা বনাম আওয়ামী লীগ

উজ্জ্বল (কুষ্টিয়া)
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৩৩৪ বার পড়া হয়েছে
‘নৌকা হারলে আওয়ামী লীগ জিতবে, আওয়ামী লীগ হারলে নৌকা জিতবে।’ আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ায় ভোটের লড়াইয়ের সমীকরণ এভাবেই দাঁড় করিয়েছেন কুষ্টিয়া সদরের বাসিন্দা হাফিজ আল আসাদ। তিনি আরও বলেন, ‘কুষ্টিয়ার চার আসনেই আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের লড়াই হবে। কেউ কাউকে ছাড় দেবে না।’
এদিকে এলাকার উন্নয়ন নিয়েও কুষ্টিয়ার ভোটারদের মধ্যে রয়েছে প্রত্যাশা-ক্ষোভ। তাঁদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের আসন ছাড়া জেলার অন্য কোনো আসনে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। এ কারণে সাধারণ ভোটারের অনেকে দ্বিধায় রয়েছেন, এবার কাকে বেছে নেবেন।
চার আসনে নৌকার প্রতিপক্ষ আ.লীগ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা কুষ্টিয়ায় জাতীয় সংসদের চারটি আসন। এর মধ্যে কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা ও মিরপুর) আসন মহাজোটের সঙ্গে সমঝোতায় ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই আসনে জাসদের হাসানুল হক ইনু নৌকা মার্কায় ভোট করছেন। তাঁর পথের বাধা স্বতন্ত্র প্রার্থী মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। তিনি ট্রাক প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। ঈগল মার্কা নিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলীর ছেলে পারভেজ আনোয়ার তনু। আনোয়ার আলী কুষ্টিয়া পৌরসভার পাঁচবারের নির্বাচিত মেয়র।
কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী ও খোকসা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ। তাঁর বিপরীতে ট্রাক প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সংসদ আব্দুর রউফ। কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে নৌকা প্রতীকে আছেন আ ক ম সারোয়ার জাহান বাদশাহ। ট্রাক প্রতীক নিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী। তিনিও আওয়ামী লীগ নেতা।
হানিফের আসনে লড়াইয়ের আভাস
গত বুধবার সারা দিন কুষ্টিয়া-২ ও কুষ্টিয়া-৩ আসন ঘুরে ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কয়েকজন সাধারণ ভোটার জানালেন, নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উভয়ই আওয়ামী লীগের হওয়ায় কাকে ভোট দেবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকেই। কুষ্টিয়া সদরের ডাচ-বাংলা মোড়ে পান বিক্রেতা মো. মোমিন বলেন, পারভেজ তনু তাঁর এলাকার। সেই হিসেবে তিনি তাঁকেই ভোট দিতে চান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই এলাকার বিএনপি সমর্থক এক ব্যবসায়ী বলেন, তিনি ভোটের দিন দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। যদি ভোট সুষ্ঠু মনে হয়, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীকেই ভোট দেবেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহবুব উল আলম হানিফ আজকের পত্রিকাকে বলেন, স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই।
ইনুর পাশে নেই আওয়ামী লীগ
নৌকা নিয়ে ভোটের মাঠে থাকলেও জাসদের হাসানুল হক ইনুর পাশে নেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক কর্মী-সমর্থক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী কামারুল আরেফিনকেই বেছে নিতে চান।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কামারুল আরেফিন বলেন, তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী। তাই ভোটারের দ্বিধার কোনো কারণ নেই।
দুই আসনে স্থানীয় আ.লীগে দ্বন্দ্ব:
কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী ও খোকসা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফের জনপ্রিয়তা রয়েছে। এরই মধ্যে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কয়েকবার সংঘাতে জড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। হয়েছে পাল্টাপাল্টি মামলাও।
তবে সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, যিনি স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, তাঁকে আওয়ামী লীগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
কুষ্টিয়া-১ আসনেও নৌকার বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার ট্রাক মার্কা।
সার্বিক বিষয়ে কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সহসভাপতি মিজানুর রহমান লাকী বলেন, দলীয় প্রার্থীর বাইরে যাঁরা স্বতন্ত্র রয়েছেন, তাঁরা অধিকাংশ আওয়ামী লীগ। একই দলের দুই প্রতিপক্ষ হওয়ায় কুষ্টিয়ায় নির্বাচনের আগে সংঘাত হবে।
জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, প্রশাসন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com