1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

দক্ষিণখানে বেপরোয়া মাদক ব্যবসায়ী হাসুর খুঁটির জোর কোথায়?

সোহরাব হোসেন
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৬৪৪ বার পড়া হয়েছে
সেবনে উদ্বুদ্ধ করে হাসু। এমন গুরুত্বর অভিযোগকারী ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
নিজস্ব প্রতিদক: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এমনকি ভ্রাম্যমান আদালতের চক্ষু ফাঁকি দিয়ে রাজধানীর দক্ষিনখানে অবাধে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে হাসেম হাসু নামক এক মাদক ব্যবসায়ী। দক্ষিণখানের দক্ষিণ মোল্লারটেকের বায়তুল মামুর জামে মসজিদ এলাকায় মাদক ব্যবসায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই হাসু। 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক মার্কার পক্ষে কাজ করেছে মাদক ব্যবসায়ী হাসেম হাসু ওরফে কন্টাকটার হাসু। এস. এম. তোফাজ্জল হোসেনের সমর্থনে কাজ শুরু করার পর থেকে হাসু হয়ে উঠে আগের চেয়ে বেপরোয়া। নির্বাচনের ফলাফলের আগেই নিজেকে এমপির লোক দাবি করা শুরু করে। যদিও নির্বাচনে ট্রাক মার্কা পরাজিত হয়েছে। বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে মো. খসরু চৌধুরীর কেটলি মার্কা। জানা যায়, নির্বাচনের সময় দক্ষিণ মোল্লারটেকের অসংখ্য তরুণ যুবককে গাঁজা, ইয়াবার মতো মরন নাশক মাদকের বিনিময়ে ট্রাক মার্কার নির্বাচনী প্রচারণায় নিয়ে যেত হাসু। কিছু কিছু জায়গায় ট্রাক মার্কার প্রতিদ্বন্দ্বিদের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও প্রচারণায় অংশ নেওয়া কর্মীদের উপর হামলাও করেছে হাসু। নির্বাচনের দিন উদয়ন স্কুল কেন্দ্র এলাকায় কেটলির কর্মীদের উপর হামলা করে ট্রাকের কর্মীরা। এই হামলার ঘটনায় সরাসরি অংশ নেয় হাসু। স্থানীয় সাংবাদিক সোহরাব হোসেন এর সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এখন অনেকে বলাবলি করছে, এধরনের সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা তোফাজ্জল হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কারনেই সুশীল সমাজ ট্রাক মার্কায় ভোট দেয়নি।
যদিও এস. এম. তোফাজ্জল হোসেন এর ঘনিষ্ঠ জনেরা নিশ্চিত করেছেন হাসু নামের কাউকে তারা চিনেন-ও না। কেউ তার লোক পরিচয়ে মাদক ব্যবসা করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজমিস্ত্রীর পেশার আড়ালে ভ্রাম্যমানভাবে গাঁজা ও ইয়াবার ব্যবসা করে হাসু। স্থানীয় কয়েকজন নেতাদের ম্যানেজ করে চলে তার ব্যবসা। বিমানবন্দর রেল স্টেশন, হাজীক্যাম্প, ইর্শাল কলোনি, উদয়ন স্কুল রোডে ভ্রাম্মমানভাবে মাদক ব্যবসা করলেও প্রায় সময়েই দক্ষিণ মোল্লারটেকের বাদলের চা দোকানে বসেও মাদক আদান-প্রদান করতে দেখা যায় হাসুকে।
এক সময় নুন আনতে যার পান্তা ফুরোতে সে হাসু এখন মাদক ব্যবসার টাকায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ! ঝুপড়ি ঘর ছেড়ে থাকেন ফ্লাট বাসায়। পুলিশের জ্যাকেট, জুতো গায়ে জড়িয়ে ঘুরে বেড়ান। জানা গেছে, দক্ষিণখানে বেশ কয়েকটি পুলিশের সামগ্রী বিক্রির দোকান রয়েছে, সেখান থেকে পুলিশ না হলেও তাদের সামগ্রী কিনে ব্যবহার করেন হাসু।
দক্ষিণখানের বটতলা এলাকার কয়েকজন রাজমিস্ত্রী অভিযোগ করেন, হাসু মাদক ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন সাইটে রাজমিস্ত্রী সাপ্লাই দেয়। তার সাইটে যারা কাজ করতে যায় তাদের ঠিকমতো পারিশ্রমিক দেয় না। ন্যায্য পারিশ্রমিক চাইলে মারধর করে। এনিয়ে তার সাথে রাজমিস্ত্রীদের প্রতিদিন ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। যারা হাসুর সাইটে একবার কাজে যায় তারা আর ২য় বার যেতে চায় না। এছাড়া তার সাইটে যারা কাজ করে তাদের মাদক
একটি সূত্রে জানা যায়, উত্তরা পূর্ব থানা ও টঙ্গী তুরাগ থানায় হাসুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এলাকার উঠতি বয়সের তরুনদের হাতে মাদক তুলে দিয়ে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে হাসু। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই বর্বর নির্যাতনের শিকার হতে হয়। হাসু শুধু মাদক ব্যবসাই করেন না, নানা রকম সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথেও জড়িত সে। এছাড়া হাসুর পরিকল্পনায় দক্ষিনখানের বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। চোরদের শেল্টার দেয় হাসু। এবং চুরির মালামাল কেনাবেচা করেন।
দক্ষিণ মোল্লারটেক এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির সাথে হাসুর ব্যাপারে কথা বললে তারা জানান, ‘হাসুর কোনো মানসম্মান নেই। নির্লজ্জ একটা লোক। তাকে বাধা দিলেও কথা শোনে না। এলাকার কিছু মাদকসেবী খারাপ ছেলেপেলে তার সাথে আছে। তাই আমরা কিছু করতে পারি না। উল্টো মাদকাসক্তরা আমাদের সম্মানহানি করে।’
বেপরোয়া মাদক ব্যবসায়ী হাসুকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
মাদক ব্যবসায়ী হাসুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে নিউজ প্রকাশ করলে প্রতিবেদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘আমার কিচ্ছু করতে পারবেন না। আমার পেছনে অনেক বড় বড় নেতার হাত আছে।’
এবিষয়ে কথা বলতে দক্ষিণখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা বেকরা হলে তিনি নির্বাচনকালীন ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com