1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কোরবানির শিক্ষা অনুপ্রেরণা জোগায়: জামায়াত আমির পাচারকৃত টাকা ফেরতের দাবিতে পিরোজপুরে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের মানববন্ধন চিরিরবন্দরে ড্যাম্প ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকের চালকসহ ৬ যাত্রী আহত, বিক্ষুদ্ধ জনতার ড্যাম্পট্রাকে আগুন বেহাল রাস্তাঘাট ও নাগরিক হয়রানির প্রতিবাদে বাজিতপুরে সচেতন নাগরিকদের মানববন্ধন। ঈশ্বরদীতে ছাগলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১ দল হিসেবে আ.লীগের অপরাধের তদন্ত চলছে কিনা জানিনা: চিফ প্রসিকিটর ঈশ্বরদীতে ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন। জামালপুরে কয়েক বছরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আস্তার রহমান চৌডালা সেতুতে প্রতিবন্ধী স্কুটিচালকের কাছ থেকে টোল আদায়, মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন।

পাথর কোয়ারি অঞ্চলে নিরব আহাজারি সচলের আকুতি জনতার

মোঃমানিক মিয়া
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ,
উৎমা ছড়া, কালাইরাগ ও শাহ আরফিন, জৈন্তাপুর,গোয়াইনঘাঁট অঞ্চলের পাথর কুয়ারী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে।
কর্মসংস্থান বন্ধ হওয়ায় ৮০% মানুষ অনাহারে জীবন কাটাচ্ছে, পরিবারেরর মুখে জুটছেনা ৩বেলা ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া, সীমান্ত এলাকার মানুষ নিজ দেশে কোনো কর্মক্ষেত্র না থাকার করণে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে চুরাই পথে জীবিকার তাগিদে চুরি করতে যাচ্ছে, এবং খাসীয়ার গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছে, পরিবার সেই প্রাণ হারনো ব্যাক্তির মরদেহটা পর্যন্ত ফিরে পাচ্ছেনা এই রকম চলছে কর্মহীন দুর্বিষহ সীমান্ত এলাকার জনমানুষের জীবন ও বাজে নেশায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তরুণ যুবকরা,পড়াশোনা ক্ষেত্রে 60% ছেলে মেয়ে,শিশু বাচ্চারা অভাবের কারণে যাচ্ছে না স্কুল কলেজে।
তাছাড়া ব্যাংক থেকে কিস্তিতে আনা যানবাহন গাড়ি গুলোর ঋন পরিশোধ করতে পারছে না,গাড়ির মহাজনরা, ফলে গাড়ির কোম্পানি দিচ্ছে মামলা। তাছাড়া 400 র বেশি পাথর ভাংগার মেইল কারখানার বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন সরকার বিদ্যুৎ থেকে বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।
খনি চালু থাকলে শুধুমাত্র ট্রাকের রাজস্ব থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৮.৮৪ লাখ টাকা (পুরনো তথ্যানুসারে) আয় হওয়ার সুযোগ ছিল।
কোনো কোনো সূত্রে বলা হয়েছে, ইজারা দেওয়া পাথর কোয়ারিগুলো থেকে সরকার প্রতি বছর সাড়ে ৭ কোটি টাকারও কম রাজস্ব পেত, অথচ অবৈধ উত্তোলন ও অব্যবস্থাপনায় এর চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে।
প্রায় ৮-৯বছর ধরে কোয়ারী বন্ধ থাকার কারণে সিলেটের ভোলাগঞ্জ, বিছনাকান্দি, জাফলং এলাকার ১০/১১ লাখের বেশি পাথর ও পরিবহন শ্রমিক চরম জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
একসময় পাথর উত্তোলনকে ঘিরেই এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আবর্তিত হতো। পাথর কুয়ারী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই কার্যক্রমে বড় ধরনের ভাটা পড়ে। এতে শ্রমিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছেন।
সম্প্রতি কয়েকটি পৃথক ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে। গত ১ এপ্রিল উত্তর রণীখাই ইউনিয়নের ১২৫৬/৫৭ নম্বর পিলারের কাছে সীমান্তবর্তী রাজনটিলা এলাকায় সাদ্দাম হোসেন (৩০) নিহত হন। ৯ এপ্রিল দয়ারবাজার সংলগ্ন এলাকায় সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) নিহত হন। ১৩ এপ্রিল রাতে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বাংকার এলাকায় বালুচাপায় ফয়জুর রহমান (২৭) মারা যান। এছাড়া কলাবাড়ি এলাকায় ধলাই নদী থেকে পাথর বহনকারী একটি ট্রাক্টর উল্টে গিয়ে সুহান (২৩) নিহত হন।
স্থানীয়দের একটি অংশের মতে, নিয়মিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে পাথর কুয়ারী চালু থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়ানোর প্রবণতা কমতে পারত।
তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করেন, এতে দিনমজুর শ্রেণির শ্রমিকরাই বেশি চাপে পড়ছেন।
“কাজের সুযোগ না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন। বৈধভাবে কাজের সুযোগ থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”
ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের একটি অংশ পরিবেশ বিবেচনায় রেখে ‘সনাতন পদ্ধতিতে’ সীমিত আকারে পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় স্থানীয় বেচাকেনায়ও প্রভাব পড়েছে।
এলাকার জনসাধারণের মতে, পাথর কুয়ারী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সরকার সম্ভাব্য বড় ধরনের রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রিত ও বৈধ ব্যবস্থাপনার বাইরে পাথর উত্তোলনের প্রবণতা থাকলে তা থেকে সরকারি কোষাগারে প্রত্যাশিত রাজস্ব জমা হয় না।যদিও সরকারিভাবে বলা হয় পরিবেশ রক্ষায় কোয়ারি বন্ধ, কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এটি চালু রেখে যথাযথ তদারকি করলে সরকার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পেতে পারতো, যা এখন বিদেশি পাথর আমদানির ফলে হাতছাড়া হচ্ছে।
ভোলাগঞ্জ অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিকে স্থানীয়রা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও মানবিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত ও টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com