পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চার মৌয়ালের মধ্যে আরও দুইজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দলের প্রবীণ সদস্য সত্তোরোর্ধ্ব আকবর মোল্যার এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার ছয়দিন পর সকালে সুন্দরবনের ছায়া নদীর টেক এলাকা থেকে হলদেবুনিয়া টহল ফাঁড়ির সদস্যরা দুই মৌয়ালকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃতরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার গোদাড়া গ্রামের অলিউর রহমান লিটন ও মিকাইল হোসেন।
এর আগে নিখোঁজ অপর মৌয়াল ইকরামুল কবীরকে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা উদ্ধার করে। ফলে চারজন নিখোঁজের মধ্যে তিনজন ফিরে এলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আকবর মোল্যা।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের রায়মঙ্গল নদীর কাচিকাটা এলাকায় আট মৌয়ালকে বহনকারী একটি নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ সময় জেলেদের সহায়তায় চারজন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার হলেও অপর চারজন নিখোঁজ হন।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যে ১১ এপ্রিল বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে হলদেবুনিয়া টহল ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে দুইজনকে উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন।
তিনি আরও জানান, প্রায় একই সময়ে পৃথক আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচ মৌয়াল নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ভারতীয় অংশে ভেসে যাওয়া শওকাত আলীকে সেখানকার বনরক্ষীরা আটক করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অংশে গাড়াল নদীর মোহনা থেকে রাশিদুল ইসলাম (৩৬), শুকোর আলী (৩৭), আব্দুল লতিফ মোল্যা (৬৪) ও তৈবুর রহমান (২৩)-কে উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত এসব মৌয়াল কয়েকদিন ধরে অভুক্ত থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার দিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে নিখোঁজ আকবর মোল্যার খোঁজ না মেলায় পরিবারের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তার স্ত্রী মনজিলা বেগম, সন্তান ও স্বজনরা এখনো অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
দুর্ঘটনার সময় আকবর মোল্যার সঙ্গে থাকা তার ছেলে সবুর মোল্যা জানান, ঝড়ের মধ্যে একপর্যায়ে বড় ঢেউয়ে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরে পেলেও দীর্ঘ সময় খুঁজেও বাবার কোনো সন্ধান পাননি। তিনি আরও কয়েকদিন সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় জেলেদের মাধ্যমে তার পিতার খোঁজ চালিয়ে যাবেন বলে জানান।