1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ক্যানসার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ৫ সংরক্ষিত নারী আসন: ইসির কাছে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থীরা মুফতি আমীর হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী ধামইরহাটে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন সাতক্ষীরার কলারোয়ার পুত্রবধূ তুলি বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সমাবেশ অনুষ্ঠিত পুলিশের বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় ২৭ আসামি গ্রেফতার মাদারীপুর শিবচরে তেলবাহী ট্রাক ডাকাতি মামলায় দুইজন গ্রেফতার

ইন্দুরকানীতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স.প্রা.বিদ্যালয়ের বেঞ্চ বিক্রি : নেপথ্যে প্রধান শিক্ষিকা ও স্হানীয় বিএনপি নেতা

কামরুল আহসান (সোহাগ)
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৩ বার পড়া হয়েছে
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক পুরাতন বেঞ্চ কেজি দরে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
বুধবার (০৪সেপ্টম্বর) উপজেলার ২৪নং ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিগার সুলতানা স্হানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন নেতাদের সহযোগিতায় চন্ডিপুরের ভাঙ্গারী ব্যাবসায়ী জাকির হোসেন গাজীর কাছে বিক্রির ব্যাপাবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ও তিনি স্বীকার করেছেন।
জানা যায়,বিগত ০৪/৮/২৫ইং তারিখে ২৪ নং ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১টি পরিত্যক্ত ভবন, ৮টি মেহগনি ও ৬টি চম্বল গাছের নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ১১/৮/২৫ ইং তারিখ সোমবার নিলামের দিন ধার্য করে সে অনুযায়ী নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। অত্র স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষে পুরাতন শতাধিক বেঞ্চ রাখা ছিল,এই সুযোগে বেঞ্চগুলো নিলামের সাথে চালিয়ে দেওয়া যাবে ভেবে পরিত্যক্ত কক্ষে শতাধিক পুরাতন ও অপ্রয়োজনীয় বেঞ্চ শিক্ষা অফিসারকে লিখিত বা মৌখিকভাবে না জানিয়ে বা নিলাম ছাড়াই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা স্থানীয় ৩জন বিএনপির অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের ও স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষকের সহযোগিতায় বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোহেল সিকদার,শাহিন বয়াতি ও ইমাম শিকদার ঘোষেরহাট বাজারের সুপারি পট্টির চা ব্যবসায়ী এনায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এনায়েত চন্ডিপুর বাজারের চৌমুহনী সংলগ্ন ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী জাকির গাজীর নিকট বেঞ্চের লোহার পাইপ প্রতি কেজি ৩৯.৫০ টাকা দরে ৪৯০ কেজি সর্বমোট ১৯,৩৫৫ টাকায় বিক্রি করেন। সরেজমিনে গিয়ে জাকির গাজীর ভাঙ্গারী গুদামে উক্ত বেঞ্চ গুলো দেখতে পাওয়া যায় যা কোন কোন বেঞ্চে ফ্রেশ কাঠ রয়েছে।
ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন গাজীর গুদাম পরিদর্শন পূর্বক বেঞ্চ ক্রয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বেঞ্চ ক্রয়ের চুক্তিপত্র দেখান এবং বলেন ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন বেঞ্চ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা  সোহেল শিকদার, ইমাম শিকদার ও শাহীন বয়াতীর কাছ থেকে ৪৯০কেজি ৩৯.৫০ টাকা দরে মোট ১৯৩৫৫ টাকায় ক্রয় করেছি। স্কুলের বেঞ্চ তাদের কাছ থেকে কি করে কিনলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন চা ব্যবসায়ী এনায়েতের সহযোগিতায় কিনেছি, এই কাগজে উক্ত তিনজন নেতার নাম স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর রয়েছে, আমি এতেই যথেষ্ট মনে করেছি।
ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিগার সুলতানার কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনে পুরাতন ও অপ্রয়োজনীয় বেঞ্চগুলো রাখা ছিল। যেগুলো আমার প্রয়োজন সেগুলো রেখে বাকিগুলো স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে বিক্রি করেছি। কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি বা নিলাম ছাড়া কি করে বিক্রি করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন বিএনপি নেতারা আমাকে বিক্রির  অনুমতি দিয়েছে,কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন লাগবে আমি সেটা বুঝতে পারিনি। টাকা কি করেছেন জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাকিমের কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন শুধু একটি পরিত্যক্ত ভবন ও কয়েকটি গাছের নিলাম হয়েছে বেঞ্চ বিক্রির নিলাম হয়নি। পুরাতন বেঞ্চ বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই বা অনুমতি নেয়নি। প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে আলাপ করে জেনে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান বিন মোহাম্মদ আলীর কাছে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন পুরাতন বেঞ্চ বিক্রির নিলাম হয়নি। পুরাতন বেঞ্চ বিক্রির বিষয়ে তদন্তে ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com