একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। এটি সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য অস্ত্র পরীক্ষার অংশ হতে পারে বলে ধারণা করছে টোকিও ও সিউল। রোববার (১৯ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাপান টাইমস। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সিনফো এলাকা থেকে পূর্বদিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে তারা। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছে।
সিনফো এলাকায় সাবমেরিন-সম্পর্কিত স্থাপনা রয়েছে বলে জানা যায়। উত্তর কোরিয়ার ‘হিরো কিম কুন ওক’ এবং ‘৮.২৪ ইয়োংগং’ নামের সাবমেরিনগুলোকে পূর্ব উপকূলীয় এই শহরে আগে দেখা গেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের মে মাসে সিনফোর কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় একটি সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল পিয়ংইয়ং।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পতিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, উৎক্ষেপণগুলোর বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে জাপান। পরিস্থিতি মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
টোকিওর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার পরে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় পতিত হয়েছে বলে মনে করছে তারা। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বারবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে উত্তর কোরিয়া জাপান, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এই ঘটনায় পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান।
সিউলের জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তরও এই উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে টানা তিন দিন ধরে বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ওই পরীক্ষায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্লাস্টার বোমাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।