পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুল আলম মিল্টনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তাকে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে বাতিল করে বিধি মোতাবেক নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন নির্বাচিত সদস্য।
এ বিষয়ে সম্প্রতি কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইউপি সদস্যরা।
লিখিত অভিযোগে সদস্যরা দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাইকুজ্জামান শারীরিক অসুস্থ থাকায় শামসুল আলম মিল্টন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নির্বাচিত ইউপি সদস্যদের সমর্থন না থাকা সত্ত্বেও তিনি কৌশলে মৌখিকভাবে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি পরিষদের কার্যক্রমে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এতে বিভিন্ন কাজের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নির্বাচিত ইউপি সদস্যদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না করে এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন তিনি। ফলে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ সদস্যদের।
ইউপি সদস্যদের দাবি, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হলে পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। তাই দ্রুত বিধি মোতাবেক নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্য কাজী সালাউদ্দিন বলেন, “অলিখিত প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুল আলম পরিষদের উন্নয়ন ও সহায়তার বরাদ্দ সঠিকভাবে বণ্টন না করে সিংহভাগ বরাদ্দ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। আমরা চাই, নিয়ম মেনে দ্রুত নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হোক।”
তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুল আলম মিল্টন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করেই পরিষদের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছি। সরকারি সব বরাদ্দও সমহারে বণ্টন করা হচ্ছে।”
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাইকুজ্জামান শারীরিক অসুস্থ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম যেন নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং জনগণ যাতে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”