কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় প্রকাশ্যে অবৈধভাবে নদী ও চরাঞ্চল থেকে মাটি ও বালু কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে এলাকার পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকা, মাজগ্রাম ও জুগলপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি ও বালু কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ট্রাক ও ডাম্পারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, আগে এসব জমিতে ধান, পাট, গম, সরিষাসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদন হতো। কিন্তু নির্বিচারে মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জমি এখন চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন শত শত কৃষক পরিবার।
একাধিক কৃষক জানান, “আগে এই জমিতে ভালো ফলন হতো। এখন মাটি কেটে নেওয়ায় জমি দেবে গেছে, পানি ধরে না। ফসল ফলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” কেউ কেউ বাধ্য হয়ে স্বল্প দামে জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, নদী ও চরাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।