‘বিশ্ব ডাক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) চিঠি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক ময়দানে রংপুর ডাক বিভাগের উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবকে কেন্দ্র করে বিকেল ৩টা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। এ সময় ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিশেষ ছাড়ে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের কাছে চিঠি পাঠান অনেকে। ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে চিঠি লেখার ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান অংশগ্রহণকারীরা।
উৎসবে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান বলেন, “আমরা এখন ডিজিটাল ডিভাইস, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করি। বিষয়টি অনেকটা যান্ত্রিক হয়ে পড়েছে। সেই জায়গা থেকে আজকের এই আয়োজন অনেক প্রশংসার দাবিদার। কাগজের চিঠি আমাদের নব্বইয়ের দশকের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। আমরা চাই, বেরোবিতে এমন আয়োজন আরও হোক।”
আরেক দর্শনার্থী চৈতি ঘোষ বলেন, “চিঠি আসলে এক ধরনের নস্টালজিয়ার মতো। আমাদের বাবা-মায়ের সময়ে এটি ছিল অনুভূতি প্রকাশের বিশেষ একটি মাধ্যম। ফোনে মেসেজ তো সবাই লিখতে পারে, কিন্তু চিঠি লেখার জন্য আলাদা দক্ষতার প্রয়োজন হয়।”
আয়োজন প্রসঙ্গে রংপুর ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল ইসরাত জাহান নূর বলেন, “ডাক বিভাগের শক্তি শুধু এর অবকাঠামোতে নয়; এর সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের আস্থা। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহর—সর্বত্র ডাক বিভাগের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি রয়েছে।”
তিনি বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, পার্সেল, পণ্য কিংবা আনুষ্ঠানিক নথিপত্র নিরাপদে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশ্ব ডাক দিবস শুধু ডাক বিভাগের একটি দিবস নয়, এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের ইতিহাস স্মরণ করার দিন। প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক, মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ, আস্থা ও সেবার প্রয়োজন কখনো ফুরাবে না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “চিঠি আমাদের মনের অনুভূতি প্রকাশের এক অনন্য মাধ্যম। আধুনিক যুগে নানা প্রযুক্তি এসেছে, কিন্তু চিঠির আবেদন কখনোই কমবে না।” এ ধরনের আয়োজনের জন্য রংপুর ডাক বিভাগকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারের মধ্যে কাগজের চিঠির আবেদন ও আবেগকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ডাকসেবার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে উৎসবটি ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন আয়োজনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা।




