গত বুধবার (১৩-০৫-২০২৬) দুপুরে পরীক্ষা শেষে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল উত্তর সাদীপুর এলাকার মৃত মিরান খানের বড় মেয়ে মিরা (১২)। পথিমধ্যে সাদীপুর এসি রোড সংলগ্ন এলাকা থেকে মিরার দূর সম্পর্কের চাচা জাহিদুল খান জিহাদ (৩০+) তাকে কাছে ডাকে। একপর্যায়ে লম্পট জিহাদ শিশুটির মুখে চেতনানাশক ওষুধ চেপে ধরে তাকে অচেতন করে ফেলে।
দুপুরের নির্জনতার সুযোগ নিয়ে সে অচেতন শিশুটিকে বিলমাহমুদপুর এলাকার একটি ভুট্টা ক্ষেতের ভেতর নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে জোরপূর্বক ও পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের পর শিশুটির জ্ঞান ফিরলে সে নিজেকে রক্তাক্ত ও বিবস্ত্র অবস্থায় আবিষ্কার করে। সে চিৎকার করতে চাইলে ধর্ষক জিহাদ তাকে চরম ভয়ভীতি দেখায়। লম্পট জিহাদ হুমকি দিয়ে বলে:
“তোর আব্বুকে যেভাবে হাত-পা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, এই কথা কাউকে বললে তোকে এবং তোর ছোট চাচা ইরান খানকেও একইভাবে মেরে ফেলা হবে!”
ভয়ে ও শারীরিক অসুস্থতায় শিশুটি স্তব্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জ্ঞান হারা অবস্থায় কোনোমতে ১০০ গজ দূরে তার ছোট চাচার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
ঘটনার পর শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৫ই মে তাকে বাসায় আনা হয়। গত শনিবার (১৬-০৫-২০২৬) প্রাপ্ত মেডিকেল রিপোর্টে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চূড়ান্ত প্রমাণ মিলেছে!
ঘটনার পর থেকে লম্পট ও ধর্ষক জাহিদুল খান জিহাদ (পেশায় প্রবাসী, বিবাহিত ও ২ সন্তানের জনক) এলাকা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি!
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় গত শনিবার মধ্যরাতে গোপালগঞ্জ থেকে ধর্ষক জিহাদকে গ্রেফতার করা হয় এবং ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।