1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ক্যানসার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ৫ সংরক্ষিত নারী আসন: ইসির কাছে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থীরা মুফতি আমীর হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী ধামইরহাটে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন সাতক্ষীরার কলারোয়ার পুত্রবধূ তুলি বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সমাবেশ অনুষ্ঠিত পুলিশের বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় ২৭ আসামি গ্রেফতার মাদারীপুর শিবচরে তেলবাহী ট্রাক ডাকাতি মামলায় দুইজন গ্রেফতার

ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার পতন হলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়নি

কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৬৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার ১৩তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (14 সেপ্টেম্বর) দুপরে জেলা আইনজীবী ভবন চত্বরে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে দলটির জেলা সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
সিপিবি’র কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন জাতীয় পতাকা ও জেলা সভাপতি আবদুর রহমান রুমী দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
এর আগে সম্মেলন উপলক্ষে শহরে দলটি একটি লাল পতাকা মিছিল বের করে। এতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণসঙ্গীত পরিবশেন করেন জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীরা।
পরে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ছাত্র জনতার গণ-অভুত্থানে ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই গণ-অভুত্থানে অংশ নিয়েছে। সহস্রাধিক মানুষ এই গণ-অভুত্থানে মৃত্যুবরণ করেছে। হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ফ্যাসিবাদ শাসনের অবসানের জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্য শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন উচ্ছেদ হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেই লুটেরা, ধনীক গোষ্ঠী, সেই প্রশাসন, সেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেই বিদেশি শক্তিগুলো আজকে বাংলাদেশে একটা ভীতিকর এবং নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, দেশে বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্রজনতার যে গণ-অভুত্থান হয়েছে, সেই স্বপ্ন থেকে থেকে আমাদের ক্রমেই পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হাসিনা সরকার ভূলুণ্ঠিত করেছে। আজও দেখছি মুক্তিযুদ্ধকে চব্বিশের গণ-অভুত্থানের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতিকে মুছে ফেলবার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আমরা কমিউনিস্টরা কিছুতেই এটা মেনে নেব না।
সিপিবি নেতা আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো আমাদের ভিত্তি। আর চব্বিশের চেতনা-আমাদের আকাঙ্খা, বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা। আর বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে, কৃষকের পাশে থাকতে হবে, শ্রমিকের পাশে থাকতে হবে, ক্ষেতমজুরের পাশে থাকতে হবে। তাহলেই আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।
সিপিবি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবদুর রহমান রুমীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত সরকারের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক হাসিনুর রহমান রুশো, জেলা সিপিবি’র সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ডা. এমানুল হক ইদ্রিস, সেলিম উদ্দিন খান, আবুল হাশেম. জেলা সিপিবি নেতা মোস্তফা কামাল নান্দু প্রমুখ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে সাজ্জাদ জহির বলেন, আমরা জানতাম এই সরকার শ্রেণীগতভাবে লুটেরা ও ধনিকশ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করবে। সেই এলিট শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করবে। সেই সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করবে। তার পরও ইউনূস সরকারকে আমরা সমর্থন দিয়েছি। আমরা বারবার বলেছি, আপনাদের কাজ হলো দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। এটাই এ সরকারে প্রধান ও মুখ্য কাজ। কিন্তু এই সরকার বিভিন্ন রকম সংস্কারের বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। তারা ১২টি সংস্কার কমিশন করেছে। কিন্তু আমার কৃষি সংস্কার, শিক্ষা সংস্কার, স্বাস্থ্য সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে তাদের কোনো কাজ বা বক্তব্য নাই। আমরা মনে করি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার উচ্ছেদ না হলে দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com