রাতের অন্ধকারে বিষ ঢেলে ফসলহানি, নামাজে যেতেও প্রাণনাশের হুমকি, বোদায় আতঙ্কে কৃষক পরিবার।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক সহিংসতা ও ভয়ভীতির অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ঘটনায় রাতের আধারে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩০১ শতক জমির ভুট্টা, মরিচ ও বেগুন ক্ষেত ধ্বংস করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার। একই সঙ্গে মসজিদে নামাজ আদায় করতেও হত্যার হুমকি পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের আরাজী শিকারপুর এলাকায়। এ বিষয়ে বোদা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো সুরাহা মেলেনি।
অভিযোগে জানা যায়, আরাজী শিকারপুর মৌজার ১৪টি দাগে মোট ৩০১ শতক জমি পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে দীর্ঘ ছয় থেকে সাত দশক ধরে ভোগদখল করে আসছেন মফিজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম। নিয়মিত খারিজ সম্পন্ন করে রাজস্ব প্রদানসহ চলমান আরএস রেকর্ডেও জমিগুলো তাদের নামে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু গত বছরের আগস্টের পর থেকে স্থানীয় কয়েকজনের প্ররোচনায় একটি পক্ষ জমিগুলো নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা শুরু করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তরা পূর্বে নিজেদের প্রাপ্য অংশসহ অতিরিক্ত জমিও বিক্রি করেছিলেন। এরপর জমিতে পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে গেলে নানা সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বাটোয়ারা মামলার রায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে এলেও উত্তেজনা থামেনি।
গত ২০ মার্চ জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করতে গেলে হামলার শিকার হন মফিজুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। একই বছরের ২০ মার্চ রাতে তাদের দুই শতাধিক সুপারি গাছের চারা কেটে ধ্বংস করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ এপ্রিল রাতে বিষ প্রয়োগ করে ৩০১ শতক জমির ফসল নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে জমিতে যেতে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মসজিদে নামাজে যাওয়া নিয়েও হত্যার হুমকি পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
নজরুল ইসলাম বলেন, বৈধ জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না তারা; জীবন নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় দিন কাটছে। বাড়ির পাশের প্রায় ১০ বিঘা জমি এক বছর ধরে পতিত পড়ে আছে, কারণ চাষ করতে গেলেই বাধা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত পক্ষের একজন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, জমি তাদের এবং বিষ প্রয়োগ বা হুমকির অভিযোগ সত্য নয়।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মামলা চলমান রয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
