পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর আজ মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাসভবনে বিকেল ৪টায় তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন বলে জানা গেছে। একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
বিধানসভা নির্বাচনে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ভূমিধস পরাজয়ের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গেছে বিজেপি। নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও হেরে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান ১৫ হাজারের বেশি বলে জানা গেছে।
রাজ্যজুড়ে একাধিক কেন্দ্রে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, পূর্ব বর্ধমানসহ বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করেছে বিজেপি।
এদিকে সোমবার বিকেলে গণনাকেন্দ্রে গিয়ে হামলার শিকার হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের গণনাকেন্দ্র থেকে তৃণমূলের একজন এজেন্টকে বের করে দেওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘরের পোশাকেই সেখানে পৌঁছান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন।
মমতা অভিযোগ করে বলেন, তাকে মারধর করা হয়েছে এবং প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাকে গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তিনি বিজেপিকে ‘দানবিক পার্টি’ উল্লেখ করে দাবি করেন, তারা ১০০টি আসন চুরি করেছে। সোমবার ওই মন্তব্য ছাড়া তার আর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মঙ্গলবার বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনের ফলাফল ও অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে তৃণমূল নেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের সঙ্গে একমত। রাহুল গান্ধী দাবি করেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় ১০০টি আসন ছিনতাই করেছে।

