1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বাধা দেয়ায় বিএনপি নেতার উপর হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ কুমারখালীতে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত মাগুরা বেরোইল পলিতা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা দাউদ হোসেন ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কলাপাড়ায় অটো রাইস মিলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড আদমদীঘিতে অনিয়মের ইস্যুতে খাদ্যবান্ধব বাতিল ডিলারকে পুনর্বহালের চাপ; বিব্রত প্রশাসন ফরিদপুরে বন্যার আগাম সতর্কতা বিষয়ে দিনব্যাপী মহড়া অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী: প্রশাসনের অবহেলায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নবাবগঞ্জে কড়া নজরদারীতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু কুড়িগ্রামে ৫৬ কেন্দ্রে শুরু এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে ২৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কুয়াকাটায় জেলেকে কুপিয়ে গুরুতর আহত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি

রাজশাহী-৫(পুঠিয়া-দূর্গাপুর) আসনে বইছে নির্বাচনী গরম হাওয়া!

এস.এম. মাহবুবুল ইসলাম লিটন
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫
  • ৭৫৬ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) সংসদীয় আসনটি পুঠিয়া ও দুর্গাপুর নামক দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। ইতিপূর্বে সাধারণত এই আসনটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ জাতীয় সাংসদ সদস্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এসেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০০৮ সালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, আবু বক্কর সিদ্দিক এবং মরহুম অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা ও তার সহধর্মিণী নুরুন নাহার পারুল নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। সে নির্বাচনে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল বিএনপির সাংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এরপর, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সাংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন মাত্র দুজন, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল এবং অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা। সেই নির্বাচনে খেলাপী ঋণের কারণে অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। মনোনয়ন দেওয়া হলো অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলকে। উল্লেখ্য যে, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল ২০১৮ সালের নির্বাচনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন।
তবে, এবার লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই আসনে শুধুমাত্র বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা অত্যাধিক বেশি। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে জানা যায় যে, এবার আওয়ামীলীগের জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায়, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দূর্গাপুর) আসনটিতে জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তত আট জন মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা বিভিন্ন গণসংযোগে তৎপর রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় পরিচিত ও অপরিচিত মুখ। তারা হলেন ১.পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনে গত ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে পরপর দুই দুইবারের বিএনপির মনোনীত সাংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, ২.কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক, ৩.বিএনপি’র মিডিয়া সেলের সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী মাহমুদা হাবিবা, ৪.বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, ৫.বাংলাদেশ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, ৬.রাজশাহী জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রোকনুজ্জামান আলম, ৭.পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি খায়রুল হক শিমুল, এবং ৮.রাজশাহী-৫(পুঠিয়া-দূর্গাপুর) আসনে দুইবারের নির্বাচিত সাংসদ সদস্য মরহুম অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফার সন্তান জুলফার নাঈম মোস্তফা বিষ্ময়।
এমতাবস্থায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই, রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক  কমিটির সদস্য সচিব একের পর এক কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বহিষ্কার নোটিশ প্রদান করে যাচ্ছেন বিএনপির শেকড় খ্যাত সব প্রবীণ নেতাদের। নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দলের গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে নিজের ব্যাক্তিগত ক্ষমতাবলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ব্যাতিত জেলা আহ্বায়ক কমিটির এ ধরনের বহিষ্কার করার ক্ষমতা আছে কিনা এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য যে, পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের হাতিনাদা এলাকায়, বানেশ্বর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা রফিকের ব্যাক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে এক সেনাবাহিনীর বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই সকল বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান শুরু হয়। সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, এলাকার এক চায়ের দোকানে বিএনপি নেতা রফিকের সাথে সেনা সদস্যের ভাইয়ের চোখের ইশারায় রেসারেসি আদান-প্রদানের জের ধরে রফিক এই ভাংচুর ও অগ্নিকান্ড ঘটায়। কিন্তু পরবর্তীতে এক অজানা কারণে রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বিএনপির নেতা রফিক সহ বিএনপির অন্য এক প্রবীণ নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ব্যাতিত সরাসরি আজীবনের জন্য বিএনপি থেকে বহিষ্কার করে নোটিশ জারি করেন। যখন বহিষ্কার নোটিশ জারি করেন তখন আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নে পূর্বঘোষিত বিএনপির সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে অবস্থান করছিলেন। তাই পরবর্তীতে সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত বিএনপির প্রবীণ নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ২০০৮ ও ২০১৮ সালের বিএনপি মনোনীত সাংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। এছাড়াও একই সুত্রে পুঠিয়া পৌর বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল মন্ডলকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন রাজশাহী বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার।
বর্তমানে এ নিয়ে পুঠিয়া-দূর্গাপুরের নেতা-কর্মী-সমর্থক সহ বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির তৃনমুল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দাবি যে, রাজশাহী বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব তাদের বিশেষ উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষ্যে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ও দলীয় গঠনতন্ত্র অমান্য করে পুঠিয়া-দূর্গাপুরের বিএনপির শেকড় উপড়ানোর কাজে ব্যাস্ত রয়েছেন যা এই আসনের বিএনপির জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। এছাড়াও তারা এ বিষয়টিকে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দলীয় বিশৃঙ্খলা নিরসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট আকুল আবেদন জানায়।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com