1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

সলঙ্গায় অভাবের সঙ্গে লড়াই করা এক যুবকের অনুপ্রেরণার গল্প

জি,এম স্বপ্না,সিরাজগঞ্জ 
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে
অভাব,দারিদ্র্য আর কঠিন বাস্তবতা এই তিনকে সঙ্গী করেই নিজের জীবনযুদ্ধ লড়ে যাচ্ছেন জাকির হাসান। সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া ভরমোহনী গ্রামের এই ৩০ বছর বয়সী যুবক এখন এলাকাজুড়ে পরিচিত “অদম্য জাকির” নামে।
জাকিরের জীবন যেন সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।তার বাবা আব্দুল খালেক এক সময় রাজমিস্ত্রির কাজ করলেও বয়স ও অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন।পরিবারের পাঁচ-ছয় সদস্যের দায়িত্ব এসে পড়ে জাকিরের কাঁধে।একটি ছোট টিনের ঘরেই গাদাগাদি করে বসবাস তাদের।
শৈশব থেকেই জীবনের কঠোরতা তাকে থামাতে পারেনি।সলঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে সলঙ্গা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখায় ভর্তি হন তিনি।আর্থিক সংকটকে পাশ কাটিয়ে ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.১০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন,যা তার দৃঢ় মনোবলের প্রমাণ।
কিন্তু এই অর্জনই ছিল না শেষ গন্তব্য। সংসারের ভার সামলাতে তিনি চাকরি নেন সলঙ্গা আদর্শ ইসলামী কেজি স্কুলে মাত্র ২ হাজার টাকা বেতনে পিয়ন হিসেবে।এই আয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হওয়ায় বিকেল হলেই তিনি হয়ে ওঠেন ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা।
সলঙ্গা বাজারের অলিগলিতে তার কণ্ঠ ভেসে আসে—“চা গরম,চা গরম” আর সেই ডাকেই জীবিকার চাকা ঘোরে।
তবে এখানেই শেষ নয়।চা বিক্রির ফাঁকেই ফুটে ওঠে তার আরেক পরিচয় একজন গায়ক হিসেবে।মধুর কণ্ঠে গান গেয়ে ক্রেতাদের মন জয় করেন জাকির।কষ্টের মাঝেও আনন্দ খুঁজে নেয়ার এই দক্ষতাই যেন তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
বর্তমানে জাকির মুরাদপুর ফাজিল মাদরাসার বিএম শাখায় পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।তার প্রতিদিনের জীবন এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম দিনে চাকরি, বিকেলে চা বিক্রি আর রাতে বইয়ের সঙ্গে লড়াই।
এই কঠিন পথচলার মাঝেই তিনি তার দুই বোনকে পড়াশোনা করিয়ে বিনা যৌতুকে বিয়ে দিয়েছেন—যা তার দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
জাকিরের চোখে স্বপ্ন এখনো জ্বলজ্বল করছে।হাসিমুখে তিনি বলেন,
“কষ্ট আমার সঙ্গী,কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি।পড়াশোনা শেষ করে সমাজের জন্য কিছু করতে চাই।”
তবে এই সংগ্রামকে কিছুটা সহজ করতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি তার আবেদন—একটি নিরাপদ ঘর এবং সামান্য আর্থিক সহায়তা।
অভাব তাকে থামাতে পারেনি,বরং আরও শক্ত করেছে।সলঙ্গার এই অদম্য জাকির যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়
ইচ্ছাশক্তি থাকলে দারিদ্র্যতাও হার মানে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com