জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজনৈতিক জোকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য ছিল দায়িত্বজ্ঞানহীন ও হাস্যকর।
আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্কের সময় তিনি এমন আখ্যা দেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলায় ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপনের সময় আওয়ামী লীগ শাসনামলের কার্যক্রম তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকলে আওয়ামী লীগ নিজেদের প্রথম শ্রেণির নাগরিক মনে করতো। দেশের বাকি জনগণকে তারা দ্বিতীয় শ্রেণির ভাবতো। এমনকি কোনোভাবে বিমুখ হলে নিজের দলের নেতাকর্মীদেরও ছাড়া হতো না। এ সময় কক্সবাজারের টেকনাফের কাউন্সিলর একরাম হত্যার প্রসঙ্গ টেনে আনেন আমিনুল ইসলাম।
যুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক জোকার হিসেবে আবির্ভূত হন ওবায়দুল কাদের। তিনি নানা ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নেতাকর্মীদের লেলিয়ে দেন। ফলে দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালান আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, তখনই নিজেদের প্রথম শ্রেণির এবং অন্যদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবতো। এছাড়া দেশের ইতিহাসে একজন রাজনৈতিক জোকার বা পলিটিক্যাল ক্লাউন হলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কারণ তার বিভিন্ন সময়ের কথাবার্তা কোনো রাজনৈতিক নেতাসুলভ বক্তব্য নয়। একজন টিকটকার হিসেবে তাকে সবাই অভিহিত করেন। তার বক্তব্যকে টিকটকাররা ব্যবহার করেন। তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য-কর্মকাণ্ডের কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সারাদেশে ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।