সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জগদীশ সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ, বিদ্যালয় উন্নয়ন তহবিলের অনিয়ম, বিদ্যালয়ের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন রাখা এবং শ্মশানের জমি নিয়ে বিতর্কসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে শিক্ষা বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন দেবহাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, অন্য বিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আগের বিদ্যালয় থেকেই উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা সেই টাকা পাননি। তাদের দাবি, পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে এ ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের খেলাধুলার সামগ্রী ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জগদীশ সরকার বলেন, বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরাই নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। স্কুলের নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত হওয়ায় নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ সীমিত বলেও তিনি দাবি করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় ও শ্মশানসংক্রান্ত অভিযোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দাসহ সংশ্লিষ্টদের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে এবং তার ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শ্মশানের জমি দখলের অভিযোগে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। তদন্ত চলাকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে জগদীশ সরকারকে অব্যাহতি দিয়ে সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।