বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর (বেরোবি) ক্যাম্পাসে গত বছরের শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত শিক্ষার্থীকে আটক করেছে ছাত্রদল। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে (২ নং গেইট) এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইংরেজি বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উজ্জল হোসেন (পিতা: লাল মিয়া, গাইবান্ধা সদর) হঠাৎ চত্বরে মারমুখী আচরণ শুরু করলে ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে ঘিরে ধরে এবং আটক করে। উজ্জলকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়, পরে তার বিরুদ্ধে তাজহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক “আল আমিন” বলেন, গত বছর ১৬ জুলাই, এই বেরোবি ক্যাম্পাসের গেইটে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন আবু সাঈদ। কিন্তু আজ পর্যন্ত ন্যায়বিচার হয়নি। আমরা সব সময়ই বলেছি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, তাদের বিচার হতে হবে। গতকাল উজ্জল হোসেনের সন্দেহজনক আচরণ এবং হত্যাকাণ্ডের দিনের তার ভূমিকা নিয়ে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। সে যখন চত্বরে উত্তেজনা ছড়াতে আসে, তখন আমাদের কর্মীরা তাকে আটক করে। আমরা প্রশাসন ও পুলিশকে বলব, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের চিহ্নিত করুন। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। বেরোবি ছাত্রদলের নেতা মাইদুল ইসলাম বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ দিতে চাই। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত আবু সাঈদ হত্যার বিচার না হবে, ততদিন ক্যাম্পাসে শান্তি ফিরবে না। উজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কিছু প্রমাণ আছে, যা তদন্তে সাহায্য করবে। আমরা প্রশাসনকে দাবি জানাচ্ছি, দ্রুততম সময়ে এই মামলার নিষ্পত্তি হোক। বেরোবি প্রক্টর ” ড. ফেরদৌস রহমান ” উপস্থিত সময়ে বলেন শিক্ষার্থীরা হামলায় জড়িত ব্যক্তিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করেছে । পুলিশ তদন্ত করবে, সে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে কতটুকু জড়িত। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। মামলাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে । প্রয়োজনে উজ্জল হোসেনকে রিমান্ডে নিতে হবে। শহীদ আবু সাঈদের সহপাঠী ও বন্ধুরা বলছেন, এক বছর ধরে আমরা ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি। এই হত্যায় জড়িতকে সকলকে সর্বচ্চ শাস্তি দিতে হবে। অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এই ঘটনায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও বড় একটি প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে। ছাত্রদলের এই অভিযান এবং উজ্জল হোসেনের আটক কি ন্যায়বিচারের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।