উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সংবাদ সম্মেলন উনষ্ঠিত হয়, এতে কবিরহাট বাজার প্রধান সড়কসহ উপজেলার সমস্যাগুলো তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, কবিরহাট বাজার, জনতা বাজার, চাপরাশিরহাট থেকে মন্ডলীয়া বাজার এবং ওটারহাট থেকে কালামিয়ার পোল পর্যন্ত সড়কের অবস্থা বিপদজ্জনক। তাছাড়া পৌরসভা এবং ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়ক সমূহের অবস্থা আরও নাজুক। এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সমস্ত রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং:
প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কৃষিকাজ, ছোট ব্যবসা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় থাকতে হয়। বিদ্যুতের খুটি না সরিয়ে রাস্তার কাজ চলমান থাকায় জন-জীবন ব্যাপক হুমকীর সম্মুখিন হচ্ছে। এক কথায় কবিরহাট উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় নিয়মিত লোড শেডিং জনগণের সহ্য সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ৪/৫ ঘন্টা লোভশেডিং থাকলেও বিদ্যুৎ বিলের কিন্তু কমতি নেই। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের এই দূর্বল সার্ভিস দেখে ফ্যাসিবাদী ও আওয়ামী দুঃশাসনের ধারাবাহিকতায় যেন চলমান রয়েছে।
জলাবদ্ধতা:
কবিরহাট উপজেলার অধিকাংশ এলাকা গত বছরের ন্যায় এই বছরও প্রায় ০২ মাস পর্যন্ত পানির নিচে অবস্থান করছে। দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালী খাল পূর্ব ও তার প্রকৃত নকশা অনুযায়ী খনন না করায় খালের প্রসস্থতা হারানো, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা না থাকায় এবং নোয়াখালী খালের সংযোগ খালসমূহ দীর্ঘদিন যাবত খননের অভাব, অবৈধ দখলদার মুক্ত না করা, ক্ষমতাশালী দুর্নীতিবাজদের ব্যক্তি স্বার্থে অবৈধভাবে খাল দখল করে নিজস্ব মৎস চাষ এবং ঘর-বাড়ী নির্মাণ করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই অত্র এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে মানুষের জীবন যাপন মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে এবং নানান ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বাজার সমূহে সঠিক এবং পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় ব্যবসায়ী এবং জনসাধারণকে নানান সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।
পানীয় জলের সংকট:
গভীর নলকূপ বা বিশুদ্ধ পানির উৎস নেই বহু এলাকায়। অনেক মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ গ্রীষ্মমৌসুমে দীর্ঘসময় ধরে খাবার ও ব্যবহারের পানির তীব্র সংকটের শিকার হয়ে দূর্বিসহ জীবন-যাপনে বাধ্য হচ্ছেন।
চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যবস্থার দুরাবস্থা:
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ইউনিয়ন কমিউনিটি হেলথ্ ক্লিনিক সমূহে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় জনসাধারণ কাঙ্খিত মানের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সমূহে অধিকাংশ সময়-ই অপরিচ্ছন্ন থাকায় সেবা নিতে আসা রোগী এবং তাদের আত্মীয় স্বজনদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।
দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে উন্নয়ন বঞ্চনা:
যেসব উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে, সেগুলো দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে টেকসই হচ্ছে না। প্রকল্পের নামে টাকা লুটপাট হওয়ায় জনসাধারণ তার নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাজেটকৃত প্রকল্প সমূহের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি, উদাশীনতা, দায়িত্বহীনতা, নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার এবং যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনে করে, এসব সমস্যা শুধু অব্যবস্থাপনার নয়, এটি একটি চরম অবহেলার ফল। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা প্রশাসন যদি জনগণের কল্যাণে কাজ না করে, তবে তা চরম দায়িত্বহীনতা পরিচয়ই বহন করে।