1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বাধা দেয়ায় বিএনপি নেতার উপর হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ কুমারখালীতে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত মাগুরা বেরোইল পলিতা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা দাউদ হোসেন ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কলাপাড়ায় অটো রাইস মিলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড আদমদীঘিতে অনিয়মের ইস্যুতে খাদ্যবান্ধব বাতিল ডিলারকে পুনর্বহালের চাপ; বিব্রত প্রশাসন ফরিদপুরে বন্যার আগাম সতর্কতা বিষয়ে দিনব্যাপী মহড়া অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী: প্রশাসনের অবহেলায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নবাবগঞ্জে কড়া নজরদারীতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু কুড়িগ্রামে ৫৬ কেন্দ্রে শুরু এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে ২৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কুয়াকাটায় জেলেকে কুপিয়ে গুরুতর আহত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি

সোনাগাজীতে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপের হট্টগোল

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ২১০ বার পড়া হয়েছে

নবাবপুরে  বিএনপি’র  চেয়ারম্যান গ্রুফ বনাম সাধারন সম্পাদক গ্রুফ প্রশাসনের সামনেই হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত

ফেনীর সোনাগাজীতে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মাঝে হট্টগোলো ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
 ঘটনাটি  মঙ্গলবার দুপুরে সোনাগাজী  উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পূর্ব সুলতানপুর গ্রামের বন্দর মার্কেট  এলাকায় ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, পূর্ব সুলতানপু গ্রামের কালিদাস পাহালিয়া নদীর নবাবপুর ব্রীজের তলদেশ থেকে নদী ভাঙ্গন রোধে বালু ভরাটের কথা বলে বাণিজ্যিক ভাবে ১৫দিন ধরে তোলা হচ্ছে বালু। এতে হুমকিতে পড়েছে নবাবপুর সেতু ও তার তলদেশ এবং আশেপাশের রাস্তা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
 এসময় উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।
অভিযোগ উঠেছে  নদীর গতিপথ পরিবর্তন প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিংয়ে ও বালু উত্তোলনে অনিয়ম করে আশেপাশের বিভিন্ন ব্যাক্তির জমি,পুকুর, জলাশয় ভরাট করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে সদর উপজেলার ফরহাদ নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বাচ্চু ও নবাবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির।
এ বিষয়ে নবাবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ভূঁইয়া  জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ ও উন্নয়ন)  রোমেন শর্মা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর আহসান ও সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
 এসময় তাদের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সমর্থিত বিএনপির নেতাকর্মী ও অভিযোগকারীদের পক্ষের বিএনপি নেতাকর্মীরা একে অপরের সাথে বাকবিতন্ডায় ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
এসময় তারা একে অপরকে  উদ্দেশ্যে করে তারা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেন এবং ঠিকাদারি বাদ দিয়ে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নবাবপুর ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় ব্রীজের তলদেশে বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে, নদী ভাঙনের ফলে আশেপাশের রাস্তা ও বিলীন হয়ে গেছে।
এ ভাঙ্গন রোধে বাঁকা নদী সোজা-করণের লক্ষ্যে নদীর পাশে চর কেটে গতিপথ পরিবর্তন করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
 এতে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের অভিযোগে পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা। এছাড়াও উত্তোলিত বালু দিয়ে আশেপাশের বিভিন্ন বাড়িঘর, পুকুর ও বিভিন্ন জমি ভরাট করা হয়েছে।
 অভিযোগ আছে এসব জমি, পুকুর টাকার বিনিময়ে ভরাট করা হয়েছে।
অভিযোগকারী সূত্রে জানা গেছে, সালা উদ্দিনের বাড়ির পুকুর ভরাট ১০লাখ ৪৭হাজার টাকার, শিরিন আক্তারের পিতার ২৫০শতক জমি বালু ভরাট, মো. এমরান হোসেন প্রকাশ রোমের পুকুর ভরাট করা হয়েছে।
এছাড়াও ৩০শতকের ১৫ফুট গভীর পুকুর ভরাট, প্রায় ৮০শতক জমি ভরাট করে তৈরি করা হয়েছ বালু মহাল।
আব্দুল হাই নামে স্থানীয় ভুক্তভোগী বলেন, আমার ২১ ডিসিম জায়গা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এতে  আমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
 আমি এটির প্রতিকার চাই। আমাদের জিজ্ঞাসা করেনি, বলেনি। না বলেই জায়গা ভরাট করে ফেলেছে। যেখান থেকে বালু নেওয়ার কথা সেখান থেকে কাটছেনা। আমার মত এমন অনেকের জমি নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযোগ দায়েরকারী জহির উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, আমি ইউনিয়নের সর্বসাধারণের পক্ষে অভিযোগ করেছি।
বালু উত্তোলনে ব্রীজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী বাঁকাকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে, চর কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
 কিন্তু ফরহাদনগরের সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চু ও নবাবপুরের চেয়ারম্যান জহিরের যৌথ তত্ত্বাবধানে বালু উত্তোলন করছে। চর না কেটে তারা নদীর মাঝখান থেকে বালু উত্তোলন করে টাকার বিনিময়ে আশেপাশে জমি পুকুর ভরাট করছে।
আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সরাসরি টেন্ডারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দিয়ে কাজ করানো হোক, এতে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জহিরুল হক জহির। তিনি বলেন, সরকার ৩৪ হাজার গণফুট ড্রেজিং করার অনুমতি দিয়েছে।
ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব এ জায়গাটি সরেজমিনে দেখে বালু উত্তোলনের নির্দেশনা দিয়েছেন নদী ভাঙ্গন রোধ করার জন্য। অবৈধভাবে কোন বালু উত্তোলন করা হয়নি, কেও প্রমাণ করতে পারলে আমি সেটির দায় নেব।
বালু গুলো উত্তোলন করে জমা রাখা হচ্ছে, তাই আশেপাশের জায়গা ভরাট হচ্ছে। আমাদের আরও জায়গা প্রয়োজন কারণ আরও অন্তত ২৫ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হবে। আমরা পাইপ দিয়ে বালু নিয়ে যাচ্ছি, বালু মহালের আশেপাশে পানির স্রোতের কারণে অন্যান্য জায়গা ভরাট হচ্ছে।
এ জায়গাগুলো ভাড়া নেওয়া হয়েছে। আমি শুধুমাত্র তদারকি করছি, আমার কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।
অন্যদিকে আরেক অভিযুক্ত ফরহাদ নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বাচ্চু বলেন, এখানে আমার কোন স্বার্থ নেই। এখানে উত্তোলনের কাজে যে বোটগুলো ব্যবহার হচ্ছে সরঞ্জাম গুলো ব্যবহার হচ্ছে সেগুলো আমি ভাড়া দিয়েছি।
 সেটি আমি তদারকি করছি। সরকার বাঁকা নদী সোজা করার লক্ষ্যে নির্দেশনা দিয়েছে, সে বালুগুলো উত্তোলন করে এক জায়গায় রাখা হচ্ছে।
সে বালু সরকার কি করবে তারাই জানে।
 এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ ও উন্নয়ন) রোমেন শর্মা বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি বালু উত্তোলন করে অন্য জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। সেজন্য আমরা সরেজমিনে দেখেছি পরবর্তীতে আরও অভিজ্ঞরা আসবে কোন অনিয়ম হয়েছে কিনা, পরবর্তীতে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে আমরা প্রতিবেদন দেব।
তিনি বলেন, এখানে নদী ভাঙন রোধে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য চর কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।  এখানে অন্যকোনো স্বার্থ আছে কিনা, সরকারি টাকায় অন্যকেও লাভবান হচ্ছে কিনা।পাশাপাশি যারা অভিযোগ করেছে তাদের স্বার্থ আছে কিনা সেটিও আমরা দেখব। যদি কোন অনিয়ম পাই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com