ছেলের কেড়ে নেওয়া সাইকেল উদ্ধারের চেষ্টা করায় মায়ের পা ভেঙ্গে দেয়া সহ বাড়ীঘর ভাংচুর লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে।
ভুক্তভোগী, এলাকাবাসী ও থানা সুত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের আঃ আউয়াল এর মাদ্রাসা পড়ুয়া পুত্র মোজাহিদ আখলাক জিহাদ (১৪) এর ব্যবহৃত একটি পুরাতন বাই-সাইকেল পারিবারিক পুর্ব বিরোধের জেরে প্রতিবেশী আঃ সালাম ও খট্টু মিয়া কেড়ে নেন। মোজাহিদ আখলাক জিহাদ এর মা হোমায়রা ইয়াসমিন মিনু ছেলের কেড়ে নেওয়া ওই বাই সাইকেল গ্রাম্যভাবে উদ্ধার করতে না পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর কাছে আবেদন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বাই সাইকেলখানা উদ্ধারে প্রথমতঃ স্থানীয় ইউপি সচিবকে ব্যবস্থা নিতে বললে তিনি অপারগতা প্রকাশ করায় পরে মিঠাপুকুর থানার ওসি সাহেবকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে পুলিশী তৎপরতা শুরু হওয়ায় প্রতিপক্ষ আঃ সালাম ও খট্টু মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের লোকজন নিয়ে গত মাসের ২২ তারিখ বিকেলে মোজাহিদ আখলাক জিহাদ এর মা হোমায়রা ইয়াসমিন মিনুকে তার বাড়ীর সামনে রাস্তায় আটক করে বেদম মারপিট করাসহ ডান পা মারাত্নকভাবে ভেঙ্গে দেন এবং বাড়ীঘর ভাংচুর, মালামাল, স্বর্ণালংকার লুটপাট করেন বলে দাবী ভুক্তভোগী হোমায়রা ইয়াসমিন মিনুর। তিনি এব্যাপারে মিঠাপুকুর থানায় একটি মামলাও করেছেন। ভুক্তভোগী হোমায়রা ইয়াসমিন মিনু আরো বলেন, ১ মাস ধরে ভাঙ্গা পা নিয়ে হাসপাতালের বেডে অমানুষিক কষ্ট পাচ্ছি। নাবালক ৩ সন্তানও আমাকে ছাড়া অমানুষিক কষ্ট পাচ্ছে। আমি কঠিন বিচার চাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রতিপক্ষ আঃ সালাম ও খট্টু মিয়া ভুক্তভোগী হোমায়রা ইয়াসমিন মিনুর ভাসুর (স্বামীর বড় ভাই)। তাদের মধ্যে জমি-জমা নিয়া পূর্ব হতে বিরোধ মামলা চলছে এবং প্রায় সময় তাদের কলহ-বিবাদ লেগেই থাকে। ফলে গ্রামবাসী এখন আর তাদের বিষয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না। সাইকেল নিয়ে কি ঘটেছে এবং কে পা ভেঙ্গে দিয়েছে তা বলতে পারব না।
প্রতিপক্ষ আঃ সালাম ও খট্টু মিয়ার দাবী মহিলাদের মধ্যে ঝগড়া টানা-হেচড়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পেতে পারে। তাকে কেউ মারেনি। সেই যাকে সামনে পায় তাকেই মারে।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ভুক্তভোগীর এজাহারমুলে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। #